সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টায় পুলিশ সদস্য ক্লোজড, ডোপ টেস্টের দাবী

by newsside24_01 | ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

 

বরিশাল: অফিসে ঢুকে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে ক্লোজড করা হয়েছে। এদিকে নাভিদের একাধিক সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। যদি আকস্মিক এ মুহূর্তে ডোপ টেস্ট করা হয়, তাতেই তার প্রমাণ মিলবে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। তিনি জানান, কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে আহত সাংবাদিক এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি, দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে কনেস্টবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

এদিকে হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফার ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ফিরিয়ে দিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই সাঈদ। তিনি বেশ কিছুদিন আগে মাদক চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়া পুলিশ কনস্টেবল নাভিদ আনজুমের পক্ষ হয়ে সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফার ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। বিষয়টি সদ্য বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমানকে জানানো হলে তিনি মীমাংসা করার কথা বললেও ল্যাপটপসহ মালামাল ফেরত দেয়নি এএসআই সাঈদ।

 

অপরদিকে সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদ বরিশাল সাবেক সভাপতি মনবীর আলম খান এই হামলার দোষী ব্যক্তির শাস্তিসহ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

 

গুরুতর আহতাবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি বেসরকারি এশিয়ান টেলিভিশনের বরিশালের ব্যুরো প্রধান ফিরোজ মোস্তফা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডের এশিয়ান টিভির অফিসে প্রবেশ করে আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল নাভিদ আনজুম অতর্কিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে (ফিরোজ) আহত করে। পরবর্তীতে বাহির থেকে অফিসের রুম আটকিয়ে চলে যায় হামলাকারী ওই পুলিশ কনস্টেবল। এরপর জীবন বাঁচাতে সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা ৯৯৯ এ ফোন করার পর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

আহত ফিরোজের সাথে কনস্টেবল নাভিদ আনজুমের কয়েক মাস আগে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় হয়, এবং এ সূত্র ধরে তার অফিসে যাতায়াত ছিলো। তবে ফিরোজ মোস্তফা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই সুযোগে তালার চাবি বানিয়ে নেয় নাভিদ। আর ফিরোজ মোস্তফার অনুপস্থিতিতে অফিসে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি ফিরোজ মোস্তফার দৃষ্টিগোচর হলে নাভিদকে অফিসে আসার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এতে নাভিদ তার অপকর্ম করার সুযোগ না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে একাধিকবার ফিরোজ মোস্তফার ওপর হামলা চালায়।

Source URL: https://newsside24.com/?p=2289