আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন

by newsside24_01 | জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

 

অনলাইন ডেক্স: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আরোপিত তথাকথিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্তকে শরিয়াহবিরোধী, চুক্তিভঙ্গ ও আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক আমানতকারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব ধরনের হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরত এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে জানায় যে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। পরে ২১ জানুয়ারি জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা বলা হয়। অথচ ব্যাংকে আমানত রাখা মানে নির্দিষ্ট শর্তে একটি লিখিত ও অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। হঠাৎ করে এই চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা আইন, নৈতিকতা ও ব্যাংকিং রীতিনীতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে দাবি করেন তারা।

আমানতকারীরা বলেন, “আমরা কোন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় অংশীদার হইনি। আমরা সাধারণ আমানতকারী। ব্যাংকের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এটি কার্যত রাষ্ট্রীয়ভাবে আমানতকারীদের শাস্তি দেওয়ার শামিল।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী আমানতকারী বলেন, “এই ব্যাংকে আমার স্বামীর পেনশনের টাকা রাখা ছিল। সেই টাকার মুনাফা দিয়েই আমাদের সংসার চলত। এখন বলা হচ্ছে দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়া হবে। এটা আমাদের সঙ্গে নির্মম আচরণ।”

আরেক আমানতকারী বলেন, “আজ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, কাল অন্যকোনও ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত নজির হয়ে গেলে ভবিষ্যতে যেকোনও ব্যাংকের দুর্নীতির দায় সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো হবে। এতে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে।”

বক্তারা শরিয়াহ আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মুদারাবাহ চুক্তি অনুযায়ী কোনও প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, অপব্যবহার বা দুর্নীতির কারণে লোকসান হলে তার দায় আমানতকারীদের বহন করার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে আমানতকারীদের মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি শরিয়াহ পরিপন্থি।”

মানববন্ধনে আমানতকারীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় আরোপিত হেয়ারকাট বাতিল, সব ধরনের হিসাবের টাকা মুনাফাসহ নগদায়নের সুযোগ দেওয়া, এফডিআর ও ডিপিএস ভাঙার অধিকার নিশ্চিত করা, নতুন ও পুরোনো আমানতকারীদের সমান অধিকার প্রদান, ধাপে ধাপে পুরো আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আরটিজিএস, ইএফটি, এটিএমসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু করা।

আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার দায় এখন সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক লুটের শিকার আমানতকারীদের আবারও ‘হেয়ারকাট’-এর নামে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে হেয়ারকাট বাতিল এবং সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরতের কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু না হলে সারাদেশের সব শাখায় একযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ সময় আমানতকারীরা অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান, সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

Source URL: https://newsside24.com/?p=2440