TT Ads
Spread the love

 

বরিশাল: বরিশাল জেলায় এখন মালবেরি ফলের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রচুর ভিটামিন সি, ই, কে এবং এ সমৃদ্ধ এই ফলকে ব্যবসায়িকভাবে চাষ করছেন। এতে যেমন চাষীরা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা দেখছেন, তেমনি জীবনমানে এসেছে পরিবর্তন।

 

রং ও আকার দেখে বিদেশি ফল ব্ল্যাকবেরি মনে হলেও এটি আসলে মালবেরি ফল। অনেকে তুঁত ফলও বলেন। দেখতে এক ধরনের হলেও বেরিজাতীয় এই ফল গুণে আলাদা। এতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন। যা প্রদাহনাশক। এ ছাড়া আছে ভিটামিন সি, ই, কে এবং এ। যা বহু রোগ দূরে রাখতে কার্যকরী।

 

বর্তমানে দেশে এ জাতের ফলের ফলন নেই বললেই চলে। তবে সখের বসে বাবা-ছেলের গড়া বাগানের গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে মালবেরি ফল ধরেছে। যে ফল খেতেই শুধু সুস্বাদু নয়, দেখতেও বেশ সুন্দর। তাই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে গড়ে ওঠা মালবেরি বাগান দেখতেও বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

 

সবুজ পাতার মাঝে গাঢ় লাল বা গাঢ় বেগুনি রঙে ছেয়ে যাওয়া মালবেরি ফল-এর বাগান ঘুরে দর্শনার্থীরাও বেশ খুশি। তারা বলছেন, বাজারে চড়া দামে মালবেরি পাওয়া গেলেও এভাবে বাগানে নিজ চোখে মালবেরি ফল দেখে তা আবার নিজ হাতে ছিঁড়ে খাওয়া বা কেনার কথা কখনও ভাবতেও পারেননি।

 

অপরদিকে রোপণের এক বছর পরেই গাছে ফল আসলেও তৃতীয়বারে এসে প্রচুর ফলন দেখে খুশি পরিচর্যাকারী ও উদ্যোক্তারা।

 

বাগান মালিকের ছেলে ও উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান শুভ বলেন, চারবছর আগে বরিশালের কৃষি খামারি শামীম ভাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি প্রজাতির এ ফলের গাছ সংগ্রহ করে আজিমপুরের গ্রামের বাড়িতে রোপণ করি। মূলত আমার মায়ের ডায়বেটিক রয়েছে, তিনি মিষ্টি জাতীয় ফল খেতে পারেন না। তখন খুঁজে দেখলাম মালবেরি ফলটা টক-মিষ্টি ও অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ। এটি ডায়বেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীরা খেতে পারেন।

 

তিনি বলেন, পাকিস্তানি প্রজাতির এ মালবেরি ফলের গাছ থেকে এত ফলন পাবেন আশা করেননি। গত তিন বছর ধরে ফল দিলেও এবারে প্রচুর ফলন হয়েছে। আর ফলনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে, দেশের বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি মালবেরি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বর্তমানে এ বাগান থেকে লাইভ অর্থাৎ সরাসরি ফল কিনতে পারছেন সবাই। সেইসাথে ফ্রোজেন অর্থাৎ সংগ্রহ করা ফলও বিক্রি করছি। বাজারে এর দাম অনেক হলেও আমি পরিচর্যাকারীদের খরচ হিসেবে কেজি প্রতি ৪ শত টাকায় বিক্রি করছি।

 

বাগান মালি হুমায়ুন জানান, একই বাগানে স্ট্রবেরি লাগানো হলেও তা টেকেনি তবে মালবেরি বাগান করে সফলতা পেয়েছেন তারা। এ ফল শুধু মানুষের কাছেই প্রিয় নয়, এটি পাখিদের কাছেও খুব প্রিয়।

 

তিনি বলেন, এর আগে কেউ এ ফল চাষ করেনি বিধায় আমরা আগে থেকে পরিচর্যার বিষয়ে কিছু জানতাম না। বাগান মালিক ও আমরা ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করেও এর চাষাবাদ পদ্ধতি দেখেছি।

 

এদিকে যেহেতু শুধু ইন্টারনেট থেকে নিজস্ব পদ্ধতির পরিচর্যাতেই ভালো ফলন পেয়েছেন, তাই তাদের ইচ্ছে রয়েছে মালবেরির চাষাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার। সেক্ষেত্রে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন উদ্যোক্তারা।

 

অবসর প্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী সালেহউদ্দীন আঁকন জানান, অবসর জীবনের শুরুতেই গ্রামের বাড়িতে ফলের বাগান করার উদ্যোগ নেই। সেখান থেকেই বাগানে মালবেরি ফলের চাষ। এবারের আগেও দুই বছর ফল ধরেছে গাছে, তবে এবারের মতো এত বেশি নয়। কারণ হিসেবে যেটা দেখলাম, ফল ধরার পর কুয়াশা রোধে আমরা বাগানে নেট দিয়ে দিয়েছিলাম।

 

তিনি বলেন, মালবেরির বাগানের বিষয়টি আশপাশে ছড়িয়ে পরার পর এখানে অনেকেই আসছেন। আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করছি, নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অনলাইনের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত এসেছি। তবে কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে এটির চাষাবাদ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

 

তিনি বলেন, ডায়বেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফলটি খুবই। যদি এ ধরনের কোনো রোগী আমাদের কাছে আসে তাহলে স্বেচ্ছায় এটি তাদের বিনামূল্যে খাওয়াবো। সেইসাথে আমরা চাই সুস্বাদু এই ফলটির চাষাবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক।

 

জানা গেছে, বরিশালে অনেকেই ছাদের বাগান হোক বা বারান্দায় এ গাছ রোপণ করেছেন। তবে সেইরকম ফলন ধরেনি। তবে দক্ষিণাঞ্চলে সখের বসে বাবা-ছেলের গড়া বাগানের এ ফলন দেখে আশাবাদী অনেকেই।

Print this entry

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *