কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সবাইকে কাঁদিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের পটুয়াখালী উপকূল প্রতিনিধি ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি প্রথিতযশা সাংবাদিক জাহিদুুল ইসলাম রিপন।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজবাদ তার নামাজে জানাজা শেষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা কবর স্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার নামাজে জানাজায় সকল শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহন করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার নামাজে জানাজা শেষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কলাপাড়া প্রেসক্লাব, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি,কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
তার মধ্যে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। এছাড়া এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কলাপাড়ার রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং মহিপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তিন দিনের সব ঘোষণা করা হয়েছে।

Print this entry

 

জ্বালানী প্রতিবেদক:  সারাদেশে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ‍্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখবে তারা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন‍্য এমন এক নোটিশ জারি করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এর আগে, সকালে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি।

নোটিশে বলা হয়, আগামী ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া সকল কোম্পানি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

Print this entry

 

জাতীয় : গাছে পেরেক লাগালে বা অন্য কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। অধ্যাদেশে কর্তন নিষিদ্ধ গাছ কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে এক লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে গাছের ক্ষতিসাধন করা যাবে না।

এ বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’ এর ৪ ও ৬ ধারার অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।

গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কর্তন করা যাবে না।

তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বৃক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্তন করা যাবে।
এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

অধ্যাদেশ অনুসারে, কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ব্যবস্থা নিতে পারবেন আদালত।

Print this entry

 

আবহাওয়া: দেশের চলমান শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েকদিনে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারী) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারী) কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদ আনিচুর রহমান জানান, দেশে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) সকাল থেকে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সকাল ৬টার সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

একই পোস্টে তিনি আরও লিখেন, আগামী শনি (১০ জানুয়ারী) ও রোববার (১১ জানুয়ারী) তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল ৬টায় রাজশাহী জেলায় পুরো দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ জেলায় ৭ ডিগ্রি। যশোর জেলায় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি ও পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সকাল ৬টার মধ্যে দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে ৫টির ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

Print this entry

 

মোয়াজ্জেম হোসেন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫৪তম শীতকালীন স্কুল, মাদ্রাসা জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(০৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতি কলাপাড়া উপজেলা আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার হামিদ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) মো.আকরাম হোসেন খান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো.মনিরুজ্জামান খান, উপজেলা স্কাউটস’র কোষাধ্যক্ষ নূরুল হক’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মো.আবদুর রহিম এবং লালুয়া এসকেজেবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়’র ক্রীড়া শিক্ষক আবুল বাসার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলী, লোন্দা হাফিজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আফজাল হোসেন, পাখিমাড়া প্রফুল্ল ভৌমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মিলন হাওলাদার, পরিচালনা কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আবদুল জব্বার, কাওসার হোসেনসহ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া শিক্ষকগন, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এবং সংবাদকর্মীগন।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার হামিদ বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে খেলাধুলা চালু থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা রয়েছে তাদের শিক্ষার মান উন্নত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা চালু করতে ক্রীড়া শিক্ষকদের অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য প্রতি ইভেন্টেড চ্যাম্পিয়নরা পটুয়াখালী জেলা পর্যায়ে অংশ নিবেন।

Print this entry

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রবিবার(০৪ জানুয়ারি) খুব ভোরে লড়াইয়ের জন্য উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে হাজির করা হয় বিশাল দেহের দুটি বলি মহিষ। মহিষের মালিক মজিবর ফকির ও সোহেল মিরা মহিষ দুটি হাজির করেন। এ লড়াই দেখতে দুর দুরান্ত থেকে হাজির হয় হাজার হাজার উৎসুক জনতা। ওই এলাকার যুব সমাজ এ লড়াইয়ের আয়োজন করেন। সব কিছুই ছিলো প্রস্তুত। তবে প্রাণিকল্যান আইন এর ৬ ধারা অনুসারে কোনো প্রাণীকে লড়াই করার জন্য উত্যক্ত বা প্ররোচনা করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকায় এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরা, উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে পৌছে লড়াই বন্ধ ঘোষনা করেন। তাই লড়াই দেখতে আসা মানুষ হতাশা নিয়েই ফিরে যান।
লড়াই দেখতে আসা কলাপাড়া পৌরসভার কবির হোসেন বলেন,খবর শুনে মহিষের লড়াই দেখতে এসেছিলাম। এসে দেখি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। আসলে এ ব্যাপারে যে আইনি বাধা আছে আমরা তা জানতাম না।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক বলেন, কোনো প্রাণীর লড়াই প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হয়। তাই লড়াইটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের আয়োজন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

Print this entry

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিদেহী আত্মার মাগফিরত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্টিত হযেছে। শুক্রবার রাতে লঞ্চঘাট কলাপাড়া রিপোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এ দোয়া মোনাজাত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর জীবনী সম্পর্কে এ সময় আলোচনা করেন ইউনিটির সভাপতি রাসেল কবির মুরাদ,সাধারণ সম্পাদক মো.মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু, সিনিয়র সদস্য সোলাইমান পিন্টু, আরিফুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সুমন, অর্থ সম্পাদক ফরাজি মো.ইমরান এবং দপ্তর সম্পাদক ফোরকানুল ইসলাম। এ সময় ইউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং মেহমানরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তার সম্মানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
বক্তারা দেশ গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন, ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মো. ফোরকানুল ইসলাম।

Print this entry

বরিশাল:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬ টি আসনে এরই মধ্যে ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বর্তমানে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আর এ অবস্থায় কম বয়সি প্রার্থীরা বেশ আলোচনায় রয়েছেন। কারণ, বরিশাল জেলার ৬ টি আসনের মধ্যে দুটিতে তিনজন প্রার্থী মাত্র ৩২ বছর বয়সে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

যার মধ্যে বরিশাল-৫(সদর) আসনে সর্বোকনিষ্ঠ এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টির প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম (নাহিদ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তহিদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অপরদিকে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে গণ অধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচএম ফারদিনও সব থেকে কম বয়সি প্রার্থী।

অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের জন্ম তারিখ অনুযায়ী ৮০তে পথচলা বিএনপির প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে সব থেকে বেশি বয়সের প্রার্থী। যদিও বর্ষীয়ান এই নেতাই বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) আসনে বিএনপির হাল ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সর্বোকনিষ্ঠ এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টির প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম (নাহিদ) বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। গণমানুষের কথা বলা এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টি ও চায় সনাতন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তন ঘটুক।

তিনি বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার। আমি বরিশালের সন্তান হিসেবে আর তরুণ প্রজন্মের বাহক হিসেবে চাই বরিশালবাসীকে সেবা করতে। সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকতে।

Print this entry

 

ঢাকা:  বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বার্তায় আরও জানানো হয়, মৃত্যুর সময় এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সব সদস্য মৃত্যুর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস, আর্থাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান।

বেগম জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী।

তিনি কখনো সংসদীয় নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তার জন্ম। তার বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তাদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

৪৪ বছর আগে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে খালেদা জিয়া অবস্থান করছিলেন ঢাকা সেনানিবাসে। সেসময় বিএনপি ছিল বিপর্যস্ত। দলের নেতৃত্ব কে নেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন।

রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা দিয়ে দ্রুতই দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৩, ২০০৯ এবং ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি আরো তিনবার চেয়ারপারসন হন।

দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন তিনি। দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। কোনো সমঝোতা ছাড়াই দেশ ও জনগণের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যান। এতে এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি এরশাদ হটাও এক দফা আন্দোলন শুরু করেন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে জোটগতভাবে নির্বাচন করে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। সার্কের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী ইতিহাসে তার একটি অনন্য রেকর্ড হলো পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতে জয়ী হওয়া।

সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ কারাবাসের পর তিনি সব মামলায় জামিন পান। কারাগারে থাকাকালে তাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি।

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বাড়িটিতে তিনি ২৮ বছর বসবাস করছিলেন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার বাড়িটি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীতে পরিণত হয়েছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তার ওপর গ্রেফতারি ঝড় নেমে আসে। দেশ ছাড়ার জন্য চাপ থাকলেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যাননি। গত ১৫ বছরে নানা নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে, কারাগারেও থাকতে হয়েছে। তবুও খালেদা জিয়া কোনো আপস করেননি।

বেগম খালেদা জিয়ার পুরো রাজনৈতিক যাত্রা আপসহীনতা, দৃঢ়তা এবং সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের রাজনীতিতে হার না মানা সংগ্রামের নাম।

Print this entry

 

বরিশাল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর মনোনীত দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দলীয় প্রতীক ঈগল মার্কা। ২৯ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল পৌনে চারটায় বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন-এর কাছে এ মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, নির্বাচনে চ্যালেঞ্জিং স্থান হলো : – গুন্ডামি-মাস্তানি, সংঘর্ষের পরিকল্পনা, কেন্দ্র দখল করা। ইতোমধ্যে পরিকল্পিতভাবে জেলে থাকা গুন্ডাদের জামিন করানো হচ্ছে, অন্য জেলা থেকে সর্বহারা আসছে। ঢাকায় ওসমান হাদি, সারা দেশে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। প্রতিটি আসনে ৫০ বা ১০০ অপরাধী লোক রয়েছে। এদেরকে গ্রেফতার বা আটক করে রাখলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এভাবে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হলে ভালো নির্বাচন হতে পারে না। তাতে একতরফা নির্বাচন হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ভয়ের মধ্যে প্রচার প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে না করা গেলে নির্বাচন সম্ভব না। নির্বাচনী দল নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষা করার জন্য একটি কমিটি করা দরকার। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের নেতাদের সেইভ করবে। প্রতিপক্ষকে মেধা, যুক্তি ও তর্ক করে ঘায়েল করবে। গায় হাত তুলে না, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে না। প্রয়োজনে মিছিল বা আন্দোলন করেন। কিন্তু হামলা চালাবেন না, কাউকে মারবেন না। প্রার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পিং করতে পারে আর জনগণ ভোট নিরাপদে দিতে পারে। তাহলেই গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে ভালো একটি নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা হয়েছে।

Print this entry