দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি অ্যাপ ফুডির সাথে যুক্ত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ঢাকার রেনেসাঁ গুলশান হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পার্টনারশিপ চূড়ান্ত হয়। অনুষ্ঠানে ফুডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হামজা চৌধুরী এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফুডির জন্য আন্তর্জাতিক এই ফুটবলারকে পাশে পাওয়া একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফুডি কর্তৃপক্ষ জানায়, হামজার আবেগ, অধ্যবসায় এবং নিজের শিকড়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাদের ব্র্যান্ডের মূলনীতির সাথে মিশে যায়। একজন অনুপ্রেরণামূলক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে সারা বাংলাদেশে ফুডির পরিচিতি আরও বিস্তৃত করতে তিনি মূল ভূমিকা রাখবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘মাঠে যেভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করি, ঠিক একইভাবে এই দেশীয় একটি ব্র্যান্ডের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। ফুডির সাথে এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।’

ফুডি এক্সপ্রেস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. শাহনেওয়াজ মান্নান বলেন, ‘হামজা চৌধুরী শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি বাংলাদেশের গর্ব ও অধ্যবসায়ের প্রতীক। ফুডি বিশ্বাস করে স্থানীয়তার শক্তিতে, স্থানীয় প্রতিভা, স্থানীয় উদ্যম এবং স্থানীয় প্রভাবে। হামজাকে আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পাওয়া তাই একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং আনন্দের বিষয়। তিনি ঠিক সেই মূল্যবোধ ধারণ করেন, যা ফুডি প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা তাকে ফুডি পরিবারে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত এবং এই পার্টনারশিপ লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার থেকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচের টিকিটের মূল্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিটের মূল্য প্রকাশ করেছে বিসিবি। মাত্র ৫০ টাকা খরচ করেই মাঠে বসে দেখা যাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের খেলা। ৫০ টাকায় ছাউনিবিহীন পূর্ব গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হবে। এর আগে যা ছিল ১০০ টাকা।

এ ছাড়া নর্দার্ন গ্যালারি ও শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের (সাউদার্ন গ্যালারি) টিকিটের মূল্য ৭৫ টাকা। দুই ক্লাব হাউজ শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড ও শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ২০০ টাকা।

ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দিতে হবে ৩০০ টাকা। আর গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

ইতোমধ্যেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বিসিবি। তাদের অফিসিয়াল সাইট থেকে ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারবেন দর্শকরা।

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন করে চার বছরের চুক্তি করতে সম্মত হয়েছেন ফিল ফোডেন। আগামী গ্রীষ্মে সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সমঝোতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইতিহাদেই থাকছেন তিনি। সেই সঙ্গে চার বছরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি খুব একটা ফর্মে নেই ফোডেন। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো গোল পাননি তিনি। তা সত্ত্বেও, নতুন এই চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সিটির পরিকল্পনায় তিনি এখনো অপরিহার্য। সোমবার এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র হওয়া ম্যাচেও বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ফোডেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেপ গার্দিওলার অধীনে অভিষেক হওয়া ফোডেন এখন পর্যন্ত সিটির হয়ে ৩৬৫টি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি জিতেছেন ৬টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং দুটি দুটি এফএ কাপের ট্রফি।

আসন্ন বিশ্বকাপে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিশ্চিত করাই আপাতত ফোডেনের মূল লক্ষ্য। যদিও গত মাসে টুখেল জানিয়েছিলেন যে, সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে ফোডেনের জায়গা স্কোয়াডে এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েইন রুনি মনে করেন, ফোডেনের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে প্রতি ম্যাচেই খেলানো উচিত।

হাজার হাজার আর্সেনাল সমর্থক, সাদা আর লাল জার্সি গায়ে জড়িয়ে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। ​তারা উল্লাস করছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, নাচছেন। তারা জানেন যে, শেষ মুহূর্ত আসছে বলে!

এদিকে বৃষ্টির ধারায় ভিজে একাকার সিমিওনে, আর সেই বৃষ্টির সাথেই যেন ধুয়ে মুছে যাচ্ছে তার দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকেই তাদের বিদায় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বেজে গেল শেষ বাঁশি! লন্ডনের মাটিতে দ্বিতীয় লেগের এই কঠিন লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখল আর্সেনাল; আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেল ফাইনালে!

​ক্লাবের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের টিকিট কাটল গানাররা।

 

​নিজেদের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্তেতা এবং তার শিষ্যদের জন্য কী দুর্দান্ত এক রাত! সাকা টাচলাইন থেকে দৌড়ে এসে মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। আকাশের দিকে আঙুল তুলে স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি। আজকের লন্ডনের এই মায়াবী রাতের নায়ক এখন তিনিই। ইংলিশ এই তারকার ৪৫ মিনিটের সেই গোলই গানারদের পৌঁছে দিল ৩০ মের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে!

এমিরেটস স্টেডিয়াম যেন এক আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল! বৃষ্টির বাগড়ায় আবহাওয়া কিছুটা গুমোট হয়ত ছিল, কিন্তু উত্তর লন্ডনের আজকের এই উৎসবের আমেজকে তা বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি।

​আর্সেনালের পুরো স্কোয়াড একে অপরের হাত ধরে দৌড়ে যাচ্ছে সমর্থকদের দিকে– ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায় এক স্মরণীয় রাতকে উদযাপন করতে।

​আর্তেতার মুখে চওড়া হাসি! বাতাসে ঘুসি ছুড়ে তিনি সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করছেন তার এই বিজয়ী দলের জন্য আনন্দ উল্লাস করে যেতে। স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে তখন তারস্বরে বাজছে “ফ্রিড ফ্রম ডিজায়ার”, আর সেই তালের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছেন আর্সেনালের খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা।

 

​আর্সেনালের ইতিহাসে এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শেষবার তারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল ২০০৬ সালে। এই একটি মুহূর্তের জন্য ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা দীর্ঘ ২০টি বছর অপেক্ষা করেছেন! ​এবার ৩০ মের সেই গ্র্যান্ড ফাইনালের লড়াই লড়তে তাদের গন্তব্য বুদাপেস্ট!

’এটা সত্যি অসাধারণ! আমাদের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, সমর্থকদের কাছে এর মানে কী– তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। আমরা সবাই আজ ভীষণ খুশি,’ অ্যামাজন প্রাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকা এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

গতকাল প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটি এভারটনের মাঠে ড্র করলে আর্সেনালের সামনে ২২ বছরে শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ এসেছে। বাকি তিন ম্যাচ জিতলে লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠায় ডাবলস জয়ের হাতছানি তাদের সামনে।

সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে আর্সেনাল মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজির। আজ (বুধবার) মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামার আগে বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে পিএসজি।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের বার্ষিক হাল নাগাদে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। র‍্যাংকিংয়ে একধাপ এগিয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে আট নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। 

সর্বশেষ র‍্যাংকিংয়ে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে খেলা সব ম্যাচকে ১০০ শতাংশ এবং আগের দুই বছরের ম্যাচগুলোকে ৫০ শতাংশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বার্ষিক হালনাগাদে। ২৭৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ২৬২। ২৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া।

আইসিসি র‍্যাংকিংয়ের সেরা সাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২৪৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে নিউজিল্যান্ড। ২৪৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৪০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে পাকিস্তান। ২৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে সাত নম্বরে।

শ্রীলঙ্কা ৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৯ নম্বরে নেমে গেছে। আর বাংলাদেশ এক পয়েন্ট পাওয়ায় ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে উঠে এসেছে। আফগানিস্তান ২২০ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ঠিক এক পয়েন্ট পেছনে থেকে দশম স্থানে আছে।

জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড যথাক্রমে একাদশ ও দ্বাদশ স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় লাফ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছয় পয়েন্ট বাড়ায় দুই ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে তারা। নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড যথাক্রমে ১৪তম ও ১৫তম স্থানে নেমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের সর্বশেষ ১৪ দফা প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

 

ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত আধা-সরকারি নুর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা পরিকল্পনার পাল্টা হিসেবে ইরান চলতি সপ্তাহে ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো, অঞ্চলটি থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানসহ সকল প্রকার শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের একটি পূর্ববর্তী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ভঙ্গুর তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিটি টিকে আছে বলে মনে হচ্ছে।

 

রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সাথে কথা বলেছেন। আরাঘচি সর্বশেষ সংঘর্ষের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ববর্তী আলোচনা পর্বগুলোর তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

এদিকে, রবিবার পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় যেকোনো অগ্রগতি ওয়াশিংটনের আচরণের ‘পরিবর্তনের’ ওপর নির্ভর করছে।

 

তিনি বলেছেন, ইরান ‘কূটনৈতিক পথ অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সবকিছু আমেরিকানদের ওপর নির্ভর করছে।’

রেজা আমিরি আরো বলেছেন, “যদি তারা আলোচনায় কোনো অগ্রগতি চায়, তবে তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।”

ভারতের দক্ষিণী রাজনীতির চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখালেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। সোমবার (৪ মে) সকালের প্রাথমিক ভোট গণনার প্রবণতা অনুযায়ী, বিজয়ের নবগঠিত দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিস্ময়কর এই ফলাফলে বিজয় এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

 

দ্য স্ট্যাটসম্যান-এর প্রতিবেদন বলছে, বিজয় সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে টিভিকে’র আরো কিছু সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচনের আগে বিজয় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি ডিএমকে বা এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএ- কোনো শিবিরের সঙ্গেই জোটে যাবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমানে দুটি সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।

 

এআইএডিএমকের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা: ভোটের আগে আসন ভাগাভাগি এবং বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার শর্ত নিয়ে এআইএডিএমকের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং ডিএমকে-কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে দুই দল ফের কাছাকাছি আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান কিছুটা নরম করতে পারে।

বিজেপি বিরোধিতা ও আদর্শগত অবস্থান: বিজয় তার প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপিকে ‘আদর্শগত শত্রু’ এবং ডিএমকে-কে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এমনকি ডিএমকে এবং বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। ফলে বিজয়ের পক্ষে বিজেপির ছায়ায় থাকা কোনো জোটের সঙ্গে হাত মেলানো বেশ কঠিন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিজয় যদি এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করেন, তাহলে তিনি শর্ত দিতে পারেন যে এআইএডিএমকে-কে বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে হবে।

 

প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির বাইরে একটি ‘নতুন পথ’ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে নেমেছিলেন বিজয়। এখন প্রশ্ন হলো, নিজের সেই আদর্শিক অবস্থানে অনড় থেকে তিনি বিরোধী আসনে বসবেন, নাকি সরকার গঠনের তাগিদে পুরোনো রাজনৈতিক শত্রুদের সঙ্গে আপস করবেন? তামিলনাড়ুর মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বিজয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) কালীঘাটের বাসভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

 

মমতা বলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করতে হবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি। আমি চেয়ারের কেয়ার করি না। আমি যাব না আর। আমি সব তথ্য প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি সিইও ও আরও-কে সব জানিয়েছি। অভিযোগ কাকেই বা করব। সবাই তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে।”

 

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। আমাদের ১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছ।”

 

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও‘‌ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জিরা।

শুরুতেই মমতা বলেন, “১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনো ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?‌”

 

তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে কায়দা করেছে, প্রথম রাউন্ড কাউন্টিং হওয়ার সাথে সাথে দেখিয়ে দিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম , ওরা কিন্তু প্রথমে বিজেপির ট্যালি দিয়ে শুরু করবে। ভোটের কাউন্টি হয় ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড। প্রথম ২-৩ রাউন্ড ওরা গণনা করবে প্ল্যান করেই, যাতে ছেলেদের মনোবল ভেঙে যায়, বিজেপির গুণ্ডারা যেন সাহস পায়।”

তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, “আমাদের লড়াইটা বিজেপির সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে, যিনি কালো ইতিহাস তৈরি করেছেন। এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। মানুষের অধিকার লুট করেছেন, ইভিএম লুট করেছেন। ভোটের পর ইভিএমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চার্জ! কী করে সম্ভব? নির্বাচনের দুদিন আগে আমাদের লোকদের গ্রেপ্তার করল। সব জায়গায় তল্লাশি করল। আইসি, ওসি. এসডিও, ডিএম সব বদলে দিল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে খেলাটা খেলল। বিজেপি আর কমিশনের গট আপ সেটিং।”

 

মমতার অভিযোগ, “সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না, ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।”

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘“কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।”

 

মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, “আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে মমতা বলেন, “ইন্ডিয়া জোটকে আরো শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।”

 

তিনি বলেন, “‌বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

জাহাজ কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করলে তারা নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে।

 

শুক্রবার (১ মে) মার্কিন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওফ্যাক) এক সতর্কবার্তায় বলেছে, মার্কিন ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর জন্য ইরানের সরকারি সংস্থাগুলোকে অর্থ প্রদান করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ, এবং অ-মার্কিন ব্যক্তিরা অর্থ প্রদান করলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

 

ওফ্যাক বলেছে, “ইরানের বন্দরে আসা জাহাজগুলোর সাথে জড়িত সামুদ্রিক শিল্পের অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাহাজ চলাচল খাত ও বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা কর্তৃপক্ষের অধীনে গুরুতর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।”

 

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর একটি নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এই অবরোধের অধীনে ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা দেওয়াকে ইরান ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে।

তেহরান বলছে, প্রণালিটি দিয়ে অবাধে চলাচলের জন্য তারা জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করেছে। গত সপ্তাহে ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি বাবাবেই দাবি করেন, প্রথম টোল রাজস্ব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। টোলের পরিমাণ, আদায়ের পদ্ধতি বা কারা তা পরিশোধ করেছে, সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

ওএফএসি-র সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই অর্থপ্রদানের মধ্যে নগদ অর্থের পাশাপাশি ‘ডিজিটাল সম্পদ, অফসেট, অনানুষ্ঠানিক বিনিময় বা অন্যান্য বস্তুগত অর্থপ্রদান’ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার মধ্যে দাতব্য অনুদান এবং ইরানি দূতাবাসে দেওয়া অর্থপ্রদানও রয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি এই অর্থপ্রদানের কারণে বীমাকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো মার্কিন ব্যক্তিরা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে, তাহলে অর্থপ্রদানকারী অ-মার্কিন ব্যক্তিরাও দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘আশা করেন’ ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস হবে। কারণ ‘আমি জিততে চাই।’

 

ওয়াশিংটন ডিসির ওভাল অফিসে শিশুদের শারীরিক সুস্থতা বিষয়ক একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার সময় তিনি এ কথা বলেছেন।

 

 

ইরান ব্যর্থ হচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি, প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা। (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট দারুণ কাজ করেছেন। আমাদের এমন নিষেধাজ্ঞা আছে যা আগে কেউ দেখেনি।”

 

তার দাবি, ইরানের মুদ্রা এখন ‘মূল্যহীন।’ দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার ‘সম্ভবত ১৫০ শতাংশ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তাদের উচিত বিচক্ষণ কাজটি করা। কারণ আমরা সেখানে গিয়ে মানুষ হত্যা করতে চাই না, আমরা সত্যিই চাই না, আমি চাই না, এটা খুব কঠিন। তারা চমৎকার মানুষ, আমি তাদের চিনি, বছরের পর বছর ধরে নিউইয়র্ক এবং অন্যান্য জায়গা থেকে আমার অনেক ইরানি বন্ধু আছে, তারা চমৎকার মানুষ, আমি সেই মানুষদের হত্যা করতে চাই না।”

 

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত করেছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের খুব বাজেভাবে হারিয়েছি, এখন তারা সামনে মেশিনগান লাগানো ছোট ছোট নৌকায় পরিণত হয়েছে। তাদের প্রত্যেকটি জাহাজ এখন সমুদ্রের তলদেশে পানির নিচে পড়ে আছে।”

ইরানিরা ছলনা করে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। ইরানের যে বিষয়টি আমার পছন্দ নয় তা হলো, তারা আমার সাথে অত্যন্ত সম্মানের সাথে কথা বলবে এবং তারপর গিয়ে টেলিভিশনে বলবে, আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলিনি।”