ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে একক নাটক ‘হিয়ার মাঝে’। ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপড়েনের আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন লামিমা লাম, সুদীপ বিশ্বাস দীপ, সঞ্জয় রাজসহ অনেকে।

 

নাটকটি রচনা করেছেন সজল আহমেদ। এটি নির্মাণ করেছেন আনিসুর রহমান রাজীব।

 

নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর ৩০০ ফিট ও ডাক্তার বাড়ি-২ লোকেশনে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। ‘হিয়ার মাঝে’ নাটকটি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভিতে প্রচার হবে।  নাটকটির মার্কেটিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে এসকে মিডিয়া পিআর।

 

নাটকটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অভিনেত্রী লামিমা লাম। তিনি বলেন, “হিয়ার মাঝে’ খুব যত্ন নিয়ে করা একটি কাজ। প্রতিটি দৃশ্যে আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সহশিল্পী দীপের সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ। আমাদের কেমিস্ট্রি বেশ ভালো হয়েছে। নির্মাতা রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি, তাই পুরো অভিজ্ঞতাটাই ছিল স্বচ্ছন্দময়।”

অভিনেতা সুদীপ বিশ্বাস দীপ বলেন, “শুটিং অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। আশা করছি, দর্শকরা ঈদে টিভির পাশাপাশি ইউটিউবেও নাটকটি উপভোগ করবেন। লামিমা লামের সঙ্গে প্রথম কাজ হলেও আমাদের বোঝাপড়া খুব ভালো ছিল। দর্শকদের কাছে আমাদের জুটিটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশ্বাস করি।”

 

নিজের চরিত্র নিয়ে অভিনেতা সঞ্জয় রাজ বলেন, “গল্পটি বেশ শক্তিশালী। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করেছি। বর্তমানে নেগেটিভ চরিত্রে বেশি দেখা যায় আমাকে। তবে এই নাটকে দর্শক আমাকে ভিন্ন এক রূপে দেখতে পাবেন, যা তাদের কাছে নতুন লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া শিবপুর আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। তৃণমূলের প্রার্থী রানা চ্যাটার্জিকে ১৬ হাজার ৫৮ ভোটে পরাজিত করেছেন এই অভিনেতা। বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত রুদ্রনীল ঘোষ।

 

গতকাল রাতে খবর ছড়ায়, রুদ্রনীল জয়ী হওয়ার পর ফোন তরে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। এরপর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় চর্চা, বিতর্ক। অনেকে প্রসেজিৎকে ‘সুবিধাবাদী’ বলেও কটাক্ষ করেন। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন এই তারকা অভিনেতা।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভিনয় করে আসছি এবং আগামী দিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ—দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রং লাগাবেন না।”

 

রুদ্রনীলকে ফোন করার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি বলেন, “আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেই টুকুই পালন করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।”

বলে রাখা ভালো, গত ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হয়। উত্তরবঙ্গের আটটি ও দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলা মিলিয়ে মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থী হন ১ হাজার ৪৫২ জন। ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ।

 

কয়েক দিন বিরতি দিয়ে ২৯ এপ্রিল, এ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনার। কলকাতা ও রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনার। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। এতে বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি, আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা দেড় দশকের ক্ষমতার মসনদ কেড়ে নিলো ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপি।

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় জোসেফ চন্দ্রশেখর। ভক্তদের কাছে ‘থালাপাতি বিজয়’ নামে অধিক পরিচিত। এতদিন রুপালি পর্দায় বীরোচিত ভূমিকায় ক্ষমতাবানদের দম্ভ চূর্ণ করেছেন। তবে বিজয় আর ঝাঁ চকচকে রুপালি পর্দায় আটকে নেই; বরং রাজনীতির ময়দানে নেমে রীতিমতো ঝাঁকুনি দিয়েছেন।

 

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কোঝাগম (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়েছে। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। রুপালি পর্দার মতো রাজনীতির মাঠে চমকপ্রদ ফল বিজয়কে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে। কলেজ ড্রপআউট ছেলেটি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসতে যাচ্ছেন। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই তারকা; তৈরি হয়েছে তার জীবন নিয়ে কৌতূহল, বিশেষ করে তার শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার আলোচনার তুঙ্গে। চলুন, বিজয়ের জীবনের পৃষ্ঠা উল্টে দেখি—

 

 

চেন্নাইয়ে বিজয়ের শিক্ষাজীবন শুরু
ভারতের চেন্নাইয়ে বিজয়ের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এ শহরের কোদামবাক্কামের ফাতিমা স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। পরবর্তীতে বিরুগামবাক্কামের বালালোক স্কুলে ভর্তি হন। অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই, তার স্কুলজীবনও বেশ সাধারণ ছিল। এমন কোনো বড় খবর বা একাডেমিক সাফল্য তার ছিল না, যা ভবিষ্যতে তারকাখ্যাতির ইঙ্গিত দেয়।

 

কলেজ ড্রপআউট
স্কুলজীবন শেষ করার পর, লয়োলা কলেজে ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন বিজয়। এখানেই তার শিক্ষাজীবনে বড় একটি মোড় আসে। কারণ বিজয় স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেননি। বরং অভিনয়ের জন্য মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে যখন একাডেমিক ডিগ্রিকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়, তখন বিজয় বেছে নেন ভিন্ন একটি পথ; যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত।

নম্বর নয়, আবেগ বেছে নেন বিজয়
পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অভিনয়ে মন দেওয়ার সিদ্ধান্তই বিজয়ের জীবন বদলে দেয়। বিজয় পুরোপুরি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। যদিও শিশুশিল্পী হিসেবে আগে থেকেই তার পরিচিতি ছিল। বছরের পর বছর ধরে বিজয় গড়ে তোলেন তার বিশাল ভক্ত-অনুসারী গোষ্ঠী; হয়ে ওঠেন দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম বড় নাম। “একাডেমিক সাফল্যই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে”—প্রচলিত এই ধারণাকে ভেঙে দেন বিজয়। যদিও তার গল্পটা আলাদা। কারণ ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা, বিজয়ের জীবনের সাফল্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতি 
শিশুশিল্পী হিসেবে রুপালি জগতে পা রেখে তামিল সিনেমার শীর্ষ নায়কদের একজনে পরিণত হন থালাপাতি বিজয়। সর্বশেষ ‘থালাপাতি ৬৯’ সিনেমার জন্য ২৭৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন এই নায়ক। বিজয় এখন শুধু একজন চলচ্চিত্র তারকা নন, বরং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও নজরকাড়া; রীতিমতো উদাহরণ তিনি।

ছাব্বিশের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে তার দলের পারফরম্যান্স তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের গল্পকে অনেক তরুণ-তরুণী নিজের জীবনের গল্প মনে করেন। সবাই একাডেমিক পথে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যান না, আর সব সফলতার গল্পই ভালো নম্বর বা ডিগ্রি দিয়েও শুরু হয় না। শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আপনি কী করতে চান তা খুঁজে বের করা জরুরি—বিজয়ের জীবন এসব কথা মনে করিয়ে দেয়। কারণ লক্ষ্যে অটল থাকলে, অপ্রত্যাশিতভাবেও জীবনে সাফল্য ধরা দেয়।

 

কলেজ ড্রপআউট হলেও শিক্ষা নিয়ে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি
ব্যক্তিগত জীবনে বিজয় তার কলেজের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে না পারলেও শিক্ষা তার রাজনৈতিক বার্তার অন্যতম প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনি প্রচারের সময় তামিলাগা ভেত্রি কোঝাগম (টিভিকে) দলের প্রধান বিজয় গ্রামীণ পরিবারের জন্য শক্তিশালী একটি প্রতিশ্রুতি দেন। বিজয় বলেন, “যদি আমার দল ক্ষমতায় আসে, তবে যে কৃষকের দুই একরের কম জমি রয়েছে, তার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে।” এই প্রতিশ্রুতি ব্যাখ্যা করে বিজয় জানান, সুবিধাটি কেবল সেইসব পরিবার পাবে, যাদের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি করেন না। এর উদ্দেশ্য তাদের সহায়তা করা; যারা ক্রমবর্ধমান কলেজ খরচের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার
থালাপাতির বিজয়ের বাবার নাম এসএ চন্দ্রশেখর। তিনি ছিলেন তামিল সিনেমার পরিচালক। মা শোভা চন্দ্রশেখর ছিলেন গায়িকা। মাত্র ১০ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে নাম লেখান বিজয়। ‘বেট্রি’ নামের সিনেমাটি পরিচালনা করেন তার বাবা। প্রথম সিনেমার জন্য ৫০০ রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমায় তাকে দেখা যায়। অভিষেকের আট বছর পর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ‘নালায়া থেরপু’ সিনেমায় প্রথম নায়কের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তার প্রথম ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পুভে উনাকাগা’। এটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে।

 

তবে ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই অভিনেতার ‘থিরুমালাই’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। পরের বছর ‘ঘিল্লি’ সিনেমায় একজন কাবাডি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অভিনয় করে সকলের মন জয় করেন। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথম তামিল অভিনেতা হিসেবে বক্স অফিসে ৫০ কোটি রুপি আয় করেন। পরবর্তী সময়ে ‘থিরুপাচি’, ‘সাচেন’, ‘শিবাকাসি’, ‘পক্কিরি’, ‘কাবালান’, ‘নানবান’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘কাত্থি’, ‘মার্সাল’, ‘সরকার’, ‘মাস্টার’ প্রভৃতি সিনেমা তাকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

বিজয় জোসেফ চন্দ্রশেখর থেকে থালাপাতি বিজয়
২০১০ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিজয় জানান, তিনি যখন চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন, তখন রজনীকান্তের ‘থালাপাতি’ সিনেমা মুক্তি পায়। সেই সময় কেউ একজন সেই সিনেমার সঙ্গে মিলিয়ে তাকে ‘ইলায়াথালাপতি’ ডাকেন। সেই থেকে তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়—‘থালাপতি’।

 

সম্মাননা
অভিনয় দক্ষতা ও কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার জিতেছেন বিজয়। এর মধ্যে রয়েছে—সেরা অভিনেতা হিসেবে আটবার স্টার ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ড, তিনবার তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের পুরস্কার ও সীমা (এসআইআইএমএ) অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ফোর্বস ইন্ডিয়ার জরিপে একাধিকবার শীর্ষ ১০০ তারকার তালিকায় জায়গা করে নেন বিজয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই তারকা একাধিকবার গুগল ও টুইটারে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা তারকার তালিকায়ও স্থান পেয়েছেন।

প্রায় এক বছর বয়সি পুত্র জিবরান আনামকে কোলে নিয়ে বসে আছেন নগরবাউল জেমস। তাদের সামনে রাখা বাদ্যযন্ত্র ড্রামস। ছোট্ট জিবরানের দুই হাতে ড্রামসের দুটো স্টিক। জিবরান নিজে থেকে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

এরপর জেমস ছেলের হাত ধরে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করেন। খানিকটা বাজিও দেখান কিংবদন্তি এই তারকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছেলের সঙ্গে তারকা বাবার এমন মিষ্টি মুহূর্ত দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

একজন লেখেন, “এ তো রক্তের সঙ্গে রক্তের টান।” অন্যজন লেখেন, “রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।” কেউ লিখেছেন, “রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভাইরাল ভিডিওর কমেন্ট বক্সে শোভা পাচ্ছে।

১৯৯১ সালে অভিনেত্রী রথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমস। ২০০৩ সালে এ সংসার ভেঙে যায়। ২০০০ সালে জেমসের সঙ্গে পরিচয় হয় বেনজীর সাজ্জাদের; পরবর্তীতে আমেরিকায় গিয়ে তারা বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে এই সংসারেরও ইতি ঘটে।  প্রথম সংসারে জেমসের একটি পুত্র ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে একটি কন্যাসন্তান।

২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনের সঙ্গে জেমসের প্রথম পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, পরে প্রণয়। ২০২৪ সালে বিয়ে করেন তারা। ২০২৫ সালের ৮ জুন জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে একটি পুত্রসন্তান। এ সন্তানের নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম। তার বয়স এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ঝালকাঠির নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে ঝালকাঠির বর্তমান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

 

 

প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে সিআইডিতে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গেলে তাফসির ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় একজন প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়।

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত তাফসির ইসলাম উপজেলার বামরাইল এলাকার লিয়াকত সিকদারের ছেলে।

 

উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের চলমান এসএসসি পরীক্ষায় তিনি অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে যাচাই-বাছাই করে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে কারাদণ্ড দেন।

এ বিষয়ে মহেশ্বর মন্ডল বলেন, পাবলিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি কোনোভাবে বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে রুপাতলী ১৬ এমএলডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

 

 

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রুপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এ প্ল্যান্টের। নদী ও খাল থেকে সংগৃহীত কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্ল্যান্টে কয়েকটি ধাপে পানি শোধন করা হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহের পর কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করা হয়। এরপর স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং এবং জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উপযোগী করা হয়। সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরো কার্যকর হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরনো অবকাঠামো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর ফলে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়তে হয় এবং অনেক এলাকায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

 

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় অগ্রগতি হয়েছে।”

 

তিনি আরো জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরো স্থিতিশীল হবে। একই সঙ্গে নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময়ে এই প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এটি বরিশালের পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বরিশালে গত দুদিন ধরে ব্রজসহ টানা ভাড়ি বর্ষণ ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত জেলাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরদিনও জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ ভাড়ি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলাজুড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে গত দুইদিনের ভাড়ি বর্ষণে কৃষকের ক্ষেতে কাটা ধানগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারি বর্ষণের সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

সূত্র মতে, গত দুদিন ধরে ভারি বর্ষণে বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়ায় পাকা বোরো ধান নুয়ে পরায়  পানির সাথে মিশে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ায় অনেকেই ঘরের বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পরেছেন।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সূত্রমতে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় টানা দুদিনের ভাড়ি বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যেসব কৃষক ধান কাটার পর জমিতে রেখেছিলেন তাদের কাটা ধান এখন বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তারা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে কৃষকের চোখের সামনেই ডুবে রয়েছে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ঋণের টাকায় বোনা স্বপ্ন।

হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষক। কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ থাকলেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পরেছে।

 

অপরদিকে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানান, আরও কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুর বাজারে পোস্ট অফিসের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় এক ইজিবাইকের চালক নিহত হয়েছেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাশিপুর চৌমাথা থেকে ছেড়ে আসা একটি ইজিবাইক অপর একটি ইজিবাইককে ওভারটেক করতে গেলে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইক চালক মো. আব্দুস সাত্তার গুরুতর আহত হন। তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন।

 

 

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৫ হাজার ৭২৬ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬০ জন।