নানা কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

মঙ্গলবার (০৫ মে) ইউনেস্কো বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাঙ্গে আয়োজিত সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন ড. সুজান ভাইজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান নরিহিড ফুরুকাওয়া, ভারতের ইউনেস্কো মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (ইউনেস্কো এমজিআইইপি) অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট অফিসার ড. রিচা বানশাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সৈয়দ তানভীর রহমান এবং ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম অফিসার (শিক্ষা) রাজু দাস।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, নানা কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশ শহরের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। শহরের পরিবেশ তাদের অনেকের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। এসব শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য। তাদের অনেকেই পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সফট স্কিলের ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে না। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও হতাশা তৈরি হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সাক্ষাতে ইউজিসি ও ইউনেস্কো সম্ভাব্য প্রকল্পের কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়।

সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সপ্তম দিনের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষাবোর্ডে মোট ২০ হাজার ৬০৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ৩ হাজার ৪৬৫ জন, মাদরাসা বোর্ডে ১৩ হাজার ৮৩৩ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ হাজার ৩০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারা দেশে মোট ৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যার মধ্যে মাদরাসা বোর্ডেই ৭ জন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, আজ ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বোর্ডে মোট ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার ১৪৭ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ জন শিক্ষার্থী, যার হার ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বোর্ডভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৮২৩ জন অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া রাজশাহীতে ৭৪৩, দিনাজপুরে ৫৯১, ময়মনসিংহে ৩১২, কুমিল্লায় ৩১১, যশোরে ২৪৯, বরিশালে ১৯৭, চট্টগ্রামে ১২৩ এবং সিলেটে ১১৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, বাকি ৮টি বোর্ডে কোনো বহিষ্কার নেই।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আজ ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২২১ জন। এই বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৩৩ জন, যা ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নিয়ম ভঙ্গের দায়ে মাদারাসা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ‘আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ’ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪২ জন। এখানে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৩০৬ জন (২ দশমিক ৮৪ শতাংশ)। তবে এই বোর্ডে কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়নি৷

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে শুরু হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ বিচার। যেখানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিতে পারেন বিচারক। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং আসক্তিমূলক নকশার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে।

নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান্তা ফেতে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এই বিচার। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে কিশোররা বেশি সময় ধরে যুক্ত থাকে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণসহ নানা ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই মামলার মূল প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো ‘পাবলিক নিউসেন্স’ বা জনস্বার্থে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কি না। আইনগতভাবে এটি প্রমাণিত হলে আদালত বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারে। যেমন- অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা, কিংবা কিছু ফিচার বন্ধ করা।

এর আগে মার্চ মাসে মামলার প্রথম ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয়, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে তরুণদের জন্য নিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। এ কারণে আদালত কোম্পানিটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দেয়।

নতুন এই ধাপে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার দাবি করা হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে ১৫ বছরের একটি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়া ও চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ও আছে।

অন্যদিকে মেটা বলছে, অভিযোগগুলোর অনেকটাই বাস্তবসম্মত নয়। তাদের দাবি, চাওয়া পরিবর্তনগুলোর কিছু প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। এমনকি এসব শর্ত মানতে হলে নিউ মেক্সিকো থেকে সেবা বন্ধ করতেও হতে পারে। এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, শুধু একটি প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে সমস্যা সমাধান করা যাবে না। কারণ কিশোররা প্রতিদিন শতাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে।

মামলাটি শুধু নিউ মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ স্কুল জেলা একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা আদালতের মাধ্যমে শিল্পখাতে বড় পরিবর্তন আনতে চায়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ ধারণাটি আগে পরিবেশ দূষণ, তামাক বা মাদকসংক্রান্ত মামলায় বেশি ব্যবহৃত হতো। এখন এটি প্রযুক্তি খাতেও প্রয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য মামলার জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আদালতে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দেবে, তার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা, কিশোরদের জন্য অ্যালগরিদমে মানসম্মত কনটেন্ট অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অটোপ্লে বা অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো ফিচার সীমিত করা।

মেটা অবশ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে না। এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাদের মতে, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কিশোরদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। রায়ে যদি বড় পরিবর্তনের নির্দেশ আসে তবে তা শুধু একটি অঙ্গরাজ্য নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ শুল্কায়ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ভবন। এজন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। নির্মাণকাজ চলাকালে শুল্কায়ন কার্যক্রম সচল রাখতে কাস্টমস হাউসকে সাময়িকভাবে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ভাড়া চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস ও ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে কাস্টমস হাউসের সব কার্যক্রম এই ভবনের দুটি ফ্লোরে পরিচালিত হবে। তিন বছরের জন্য ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা।

চুক্তিতে চেম্বারের পক্ষে চেম্বার প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন এবং কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের অনারারি কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।

কাস্টমস সূত্র জানায়, নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হবে বর্তমান ১৯৫৮ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে একই স্থানে। সেখানে ১৪ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। ভবনটিতে তিনটি বেজমেন্টসহ পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হবে। চারপাশে থাকবে সবুজায়ন ও নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং।

নতুন ভবনে সমন্বিত বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে থাকবে আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার। এছাড়া সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং, উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, যাত্রী ও কার্গোর জন্য একাধিক লিফট, নিজস্ব সাবস্টেশন এবং উচ্চক্ষমতার জেনারেটর ব্যাকআপ থাকবে। সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভবনটিতে ব্যাংক বুথ, হেল্পডেস্ক, লাইব্রেরি, আর্কাইভ, মিউজিয়াম, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার ও একটি মসজিদ রাখা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ঠিকাদার নিয়োগের পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনার ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এসব গাড়ি কিনতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৬০ লাখ টাকা।

আজ (মঙ্গলবার) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা অপরিবর্তিত থাকলেও ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় এসব পরিবেশবান্ধব গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে আরও নমনীয় করা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির জন্য ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৬০:৪০ থাকলেও ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৮০:২০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির দাম এক কোটি টাকা হলে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, বাকি ২০ লাখ টাকা গ্রাহককে নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হবে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। তবে যথাযথ জামানত থাকলে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো গেলেও তা কোনো অবস্থাতেই ৪০ লাখ টাকার বেশি হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ‘কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিং’ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই ব্যাংকের মোট ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হতে পারবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত একদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে দেশের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদার সঙ্গে ব্যাংকিং খাতকে আরও সমন্বিত করবে।

শুষ্ক মুখ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠাটা সামান্য অস্বস্তির মতো মনে হতে পারে। এক চুমুক পানি খেলেই যেন ঠিক হয়ে যায়, এবং দিনটা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। কিন্তু যখন এটা প্রতিদিন সকালেই ঘটতে শুরু করে, তখন এটি শুধু পর্যাপ্ত জল পান না করার চেয়েও গুরুতর কিছুর ইঙ্গিত দেয়।

ডাক্তাররা এখন আগের চেয়ে এই অভিযোগ বেশি দেখতে পান। ঘুমের অভ্যাসের পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ এবং অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা- সবই এর পেছনে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন শুষ্ক মুখ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠার কারণ হিসেবে প্রায়শই অপর্যাপ্ত পানি পানকে দায়ী করা হয়, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এর অনেক সম্ভাব্য কারণের মধ্যে মাত্র একটি। তাহলে রাতে ঠিক কী এমন ঘটে যার ফলে সকালে মুখ এত শুষ্ক হয়ে যায়?

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার নীরব পরিবর্তন

অনেকেই অজান্তেই মুখ খোলা রেখে ঘুমান। নাক বন্ধ থাকলে বা বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে এমনটা হয়। সকালে ক্রমাগত শুষ্কতার কারণ হতে পারে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, যা সাধারণত নাক বন্ধ থাকা, সাইনাসের সমস্যা বা ডেভিয়েটেড সেপ্টামের মতো কাঠামোগত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। সরাসরি মুখের মধ্যে দিয়ে বাতাস চলাচল করলে, শরীর যে হারে লালা প্রতিস্থাপন করতে পারে, তার চেয়ে দ্রুত লালা শুকিয়ে যায়। ধীরে ধীরে এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। দূষণ, অ্যালার্জি বা এমনকি হালকা সর্দির কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলেও নীরবে এই চক্রটি শুরু হতে পারে।

যখন ঘুম নিজেই সমস্যা

শুষ্ক মুখ ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যারও একটি লক্ষণ হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাসে বারবার বিরতি লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায়। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অবস্থায় ঘুমের সময় শ্বাসনালী কিছুক্ষণের জন্য সংকুচিত হয়ে যায়। শরীরে বাতাসের অভাব দেখা দেয়, যার ফলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এবং ঘুম ভেঙে ভেঙে যায়। এটি শুধু শুষ্কতার বিষয় নয়। এর কারণে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মনোযোগের অভাবও হতে পারে।

যেসব ওষুধ নীরবে শরীরকে শুষ্ক করে তোলে

দৈনন্দিন ব্যবহৃত অনেক ওষুধের একটি অলক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, তা হলো, লালা কমে যাওয়া। অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের মতো সাধারণভাবে ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে লালার প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লালা শুধু আর্দ্রতা নয়। এটি দাঁতকে রক্ষা করে, ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মুখেই হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেন্টাল অ্যান্ড ক্র্যানিওফেসিয়াল রিসার্চ-এর মতে, লালার প্রবাহ কমে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মুখের অন্যতম প্রধান কারণ।

সকালে প্রকাশ পাওয়া লুকানো স্বাস্থ্য সমস্যা

শুষ্ক মুখ কখনও কখনও শরীরের ভেতরের অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের মতো সিস্টেমিক অসুস্থতাও এর জন্য দায়ী হতে পারে, কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন হয়, যা ফলস্বরূপ লালা উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে, শরীর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তরল বেরিয়ে যায়। ঘুমের কয়েক ঘণ্টা পর এই ঘাটতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স আরেকটি কারণ, কারণ এটি গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সকালে শুষ্কতা ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের মতো অসুস্থতা সবসময় বুকজ্বালার কারণ না হলেও, এটি সারারাত ধরে গলা এবং মুখকে প্রভাবিত করতে পারে।

কেন উপেক্ষা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে

শুষ্ক মুখের সমস্যাকে সহজেই উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু মুখ সুস্থ থাকার জন্য লালার ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মুখের সমস্যাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা এর সাথে মুখে দুর্গন্ধ, মুখে চটচটে ভাব, গিলতে অসুবিধা বা ঘুমের ব্যাঘাতের মতো উপসর্গ থাকে। পর্যাপ্ত লালা না থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এতে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং মুখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যা হালকা শুষ্কতা হিসাবে শুরু হয়, তা এমন দাঁতের সমস্যায় পরিণত হতে পারে যা সারানো আরও কঠিন।

লবণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। এটি কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ায় না বরং শরীরের তরলের ভারসাম্য এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বজায় রাখতেও সাহায্য করে। যদিও আমাদের পরিবারগুলোতে সাদা লবণের ব্যবহার এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত, তবে ধীরে ধীরে পিংক সল্টও জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এই দুই লবণের মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি আসলে বেশি ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, কেন আপনার সাধারণ লবণের পরিবর্তে পিংক সল্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের মতে, যখন থেকে আমরা সাধারণ লবণের পরিবর্তে পিংক সল্ট ব্যবহার শুরু করেছি, তখন থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা বেড়েছে। সাধারণ লবণে আয়োডিন থাকে, যা আমাদের থাইরয়েডের কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গলগণ্ডের মতো আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও সাদা লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, স্নায়ুর কার্যকারিতাকে সহায়তা করতে এবং পেশীর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি পেশীর কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য এবং পেশীর খিঁচুনি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের ক্ষেত্রে। পুষ্টিবিদরা রান্নার জন্য সাধারণ লবণ এবং সালাদের উপর ছিটিয়ে দেওয়ার জন্য পিংক সল্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার না করার কথা বলেন।

পিংক বনাম সাদা লবণ: কোনটি বেশি ভালো?

সাধারণ খাবার লবণ এবং পিংক সল্ট উভয়ই প্রধানত সোডিয়াম ক্লোরাইড, কিন্তু পিংক সল্টে ৮৪টি পর্যন্ত অতিরিক্ত খনিজ এবং ট্রেস এলিমেন্ট থাকে। এগুলোর মধ্যে পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো সাধারণ উপাদান থেকে শুরু করে স্ট্রনশিয়াম এবং মলিবডেনামের মতো কম পরিচিত উপাদানও রয়েছে।

হেলথলাইনের মতে, এগুলোর পরিমাণ এতটাই নগণ্য যে শুধুমাত্র আপনার দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদা মেটাতে প্রায় ১.৭ কেজি এই লবণ গ্রহণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পিংক সল্টে অতিরিক্ত খনিজগুলো এত কম পরিমাণে থাকে যে এগুলো থেকে কোনো প্রকৃত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অনেকে দাবি করেন যে পিংক সল্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। বাস্তবে, এই দাবিগুলোর বেশিরভাগই গবেষণার দ্বারা সমর্থিত নয়। কিছু কথিত উপকারিতা আসলে সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাধারণ কাজ, যা আপনি যেকোনো ধরনের লবণ থেকেই পেতে পারেন।

এত বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য দাবির কারণে, কোন লবণটি বেছে নেবেন তা নিয়ে মানুষের বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে, আপনি যদি সাধারণ খাবার লবণে থাকা অ্যাডিটিভগুলো এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে পিংক সল্ট একটি ভালো প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে।

মনে রাখবেন, সাধারণ খাবার লবণ আয়োডিনের একটি প্রধান উৎস। আপনি যদি পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে এর অভাব রোধ করতে আপনাকে সামুদ্রিক শৈবাল, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছের মতো অন্যান্য খাবার থেকে আয়োডিন গ্রহণ করতে হবে। পিঙ্ক সল্টের দামও সাধারণ লবণের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। যদি এতে কোনো সংযোজনী উপাদান নিয়ে আপনার আপত্তি না থাকে, তবে সাধারণ খাবার লবণই যথেষ্ট ভালো কাজ করে।

মাড়ি থেকে রক্তপাতকে বেশিরভাগ সময় একটি ছোটখাটো দাঁতের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এটি আরও গুরুতর মুখের বা অন্য কোনো শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। মাড়ি থেকে রক্তপাতের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো জিনজিভাইটিস, যা মাড়ির কিনারায় প্লাক জমার কারণে সৃষ্ট একটি হালকা মাড়ির রোগ। জিনজিভাইটিসের চিকিৎসা না করালে, এটি পেরিওডনটাইটিসে পরিণত হতে পারে, যা একটি গুরুতর মাড়ির সংক্রমণ এবং এর ফলে মাড়ি সরে যাওয়া, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া, এমনকি দাঁত পড়েও যেতে পারে।

মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং মাড়ির প্রদাহের কারণসমূহ

ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় রক্তপাত, মাড়ি ফুলে যাওয়া, লালচে ভাব, ব্যথা এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধের মতো কিছু লক্ষণকে উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ এগুলো মাড়ির প্রদাহের দিকে ইঙ্গিত করে।

যদিও মুখের সঠিক যত্ন না নেওয়া একটি প্রধান কারণ, তবে অন্যান্য কারণও মাড়িকে জ্বালা এবং রক্তপাতের জন্য আরও সংবেদনশীল করে তুলে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এগুলোর মধ্যে থাকতে পারে:

* ধূমপান

* গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন

* বয়ঃসন্ধি বা মেনোপজ

* অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

* কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ।

মাড়ি থেকে রক্তপাত কখন বড় স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে?

মাড়ি থেকে রক্তপাত শুধু মুখের সমস্যাই নয়; এটি আরও বড় স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। পর্যাপ্ত ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে না থাকলে তা আপনার শরীরের নিরাময় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আপনার মাড়িকে দুর্বল করে তুলতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে, ব্যাখ্যাতীত বা ঘন ঘন রক্তপাত রক্তের রোগ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা-সম্পর্কিত অবস্থার একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। উপসর্গগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্যান্য মুখের উপসর্গ যা গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে

মাড়ি থেকে রক্তপাতই কোনো বড় সমস্যার একমাত্র লক্ষণ নয়। মুখে দীর্ঘস্থায়ী ঘা, সাদা বা লাল ছোপ, কারণ ছাড়া পিণ্ড তৈরি হওয়া, নড়বড়ে দাঁত, অথবা চিবানো ও গিলতে অসুবিধা গুরুতর মুখের রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলো কিছু ক্ষেত্রে মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে, বিশেষ করে যারা তামাক বা অ্যালকোহল সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে।

প্রতিরোধমূলক দাঁতের যত্ন কীভাবে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে

মুখের রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক দাঁতের যত্নই সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা। দিনে দুবার ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়া সমস্যাগুলো গুরুতর হওয়ার আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য মুখের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি প্রাথমিক সতর্ক সংকেতগুলোর প্রতি মনোযোগ না দেন, তবে তা কেবল আপনার দাঁত ও মাড়ির ক্ষতিই করবে না, বরং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারেন।

মনে রাখবেন মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং মুখের অন্যান্য উপসর্গগুলো মাড়ির রোগ বা আরও বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা মুখের ও সার্বিক স্বাস্থ্য উভয়কেই রক্ষা করতে পারে।

বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেক পুরনো। তবে বেশিরভাগ সময় খিচুড়ি তৈরি হয় পোলাওয়ের চাল দিয়ে। আপনি কি কখনো মোটা চালের খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছেন? এর স্বাদ কিন্তু আলাদা। যারা মোটা চালের ভাত খেতে পছন্দ করেন না, তাদের কাছেও এটি খেতে সুস্বাদু লাগবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মোটা চালের খিচুড়ি রান্না করার সহজ রেসিপি-

তৈরি করতে যা লাগবে

মোটা চাল- ১ কাপ

ডাল- ১ কাপ

মাংস- আধা কেজি

আদা-রসুন বাটা- ২ টেবিল চামচ

পেঁয়াজ কুচি- আধা কাপ

কাঁচা মরিচ- স্বাদমতো

হলুদের গুঁড়া- আধা চা চামচ

মরিচের গুঁড়া- ১ চা চামচ

গরম মসলা- পরিমাণমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ও আস্ত গরম মসলা ফোড়ন দিয়ে মাংস, আদা-রসুন বাটা এবং সাধারণ মসলা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মাংস রান্না করুন সেদ্ধ হয়ে আসা পর্যন্ত। ধুয়ে রাখা চাল ও ডাল মাংসের সঙ্গে দিয়ে ৫-৭ মিনিট ভালো করে ভাজুন। এই পর্যায়ে পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে দিন। ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে আধা ঘণ্টার মতো দমে রাখুন যতক্ষণ না পুরোপুরি সেদ্ধ হয়। এবার নামিয়ে পরিবেশন করুন।

দিনের শুরুতে আপনার শক্তি স্থিতিশীল মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের খাবার নীরবে নির্ধারণ করে দেয় যে সেই শক্তি আসলে কতক্ষণ স্থায়ী হবে। অনেক সাধারণ খাবার প্রথমে দ্রুত শক্তি জোগায়, কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই আমাদেরকে ক্লান্ত ও নিস্তেজ করে তোলে। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের মাঝামাঝি সময়ে শক্তি কমে যাওয়া এবং ক্রমাগত ক্লান্তির পেছনে কিছু দৈনন্দিন খাবারই হতে পারে গোপন কারণ।

কিছু খাবার রয়েছে যেগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী শক্তিকে ব্যাহত করতে পারে। এই খাবারগুলো বেশিরভাগ সময় রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় বা কমিয়ে দেয় অথবা শরীরের পক্ষে এগুলো দক্ষতার সঙ্গে হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি খাবার সম্পর্কে-

১. ফলের রস

ফলের রসকে স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু ফাইবার ছাড়া এটি শরীরে ভিন্নভাবে কাজ করে। দ্রুত চিনি শোষিত হওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এর পরেই হঠাৎ করে শক্তি কমে যায়, যার ফলে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ হতে পারে। অন্যদিকে, আস্ত ফলে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার নিঃসরণকে ধীর করে দেয়। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খেলে তা স্থিতিশীল শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

 

২. ঘন ঘন ক্যাফেইন গ্রহণ

ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সজাগ অনুভূতি দিতে পারে, কিন্তু এর ওপর খুব বেশি নির্ভর করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। কফি বা চা থেকে নিয়মিত শক্তি বৃদ্ধি আপনার স্বাভাবিক শক্তির ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ধীরে ধীরে এটি নির্ভরতা এবং অবশেষে অবসাদের কারণ হতে পারে। শক্তি বাড়ানোর পরিবর্তে এটি দিনের শেষে আপনাকে আরও ক্লান্ত করে তুলতে পারে। এই চক্র এড়ানোর জন্য পরিমিতিবোধই মূল বিষয়। দিনে এক বা দুই কাপের বেশি চা-কফি না খাওয়াই উত্তম।

৩. ক্রিমি পাস্তা বা সাদা ভাত

 

ক্রিমি পাস্তা বা বেশি পরিমাণে সাদা ভাতের মতো সমৃদ্ধ ও ভারী খাবার শরীরের পক্ষে হজম করা কঠিন হতে পারে। এর জন্য শরীর থেকে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, যার ফলে অলস, ঘুমঘুম ভাব দেখা দেয় যা ‘ফুড কোমা’ নামে পরিচিত। এই খাবারগুলোতে রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্য রাখতে পর্যাপ্ত ফাইবার এবং প্রোটিনের অভাবও থাকতে পারে। ফলে, খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শক্তি কমে যায়। এর বদলে হালকা খাবার বেছে নিলে উপকার পাবেন।

৪. চিনিমুক্ত এনার্জি ড্রিংকস

চিনিমুক্ত লেবেল থাকা সত্ত্বেও এই পানীয়গুলো সবসময় শক্তিদায়ক হয় না। এগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৃত্রিম মিষ্টি এবং উত্তেজক পদার্থ থাকে যা বিপাক এবং ঘুমের ধরনকে ব্যাহত করতে পারে। যদিও এগুলো দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে, তবে তার পরবর্তী প্রভাব হিসেবে ক্লান্তি এবং অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এসব পানীয় আপনার স্বাভাবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণকেও প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের পানীয়র বদলে ডাবের পানি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পানীয় পান করা যেতে পারে।

৫. বিস্কুট

বিস্কুট একটি সাধারণ ও জনপ্রিয় নাস্তা, কিন্তু এগুলো সাধারণত পরিশোধিত ময়দা এবং অতিরিক্ত চিনি দিয়ে তৈরি হয়। এই সংমিশ্রণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তারপরেই তা সমানভাবে দ্রুত কমে যায়। এর ফলে অল্প সময়ের জন্য শক্তি পাওয়া যায় যা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। ঘন ঘন এটি খেলে আপনি শক্তির এই রোলারকোস্টারে আটকে থাকতে পারেন। এর পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ নাস্তা খেলে শক্তি বজায় রাখা সহজ হতে পারে।