তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সৎ সাংবাদিকতাকে আজ সুরক্ষা দিতে হবে অসৎ সাংবাদিকতার হাত থেকে। নামমাত্র ও ভাসমান সাংবাদিকদের ভিড়ে পেশাদার সাংবাদিকরা পথভ্রষ্ট হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজ রাষ্ট্র রাজনীতিকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা হচ্ছে গণমাধ্যমের। সে প্রধানমন্ত্রী হোক, রাষ্ট্রপতি হোক, মন্ত্রী হোক, ডিসি হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক- তার প্রতিটি কাজ নিরক্ষণ করা, প্রশ্নবিদ্ধ করা সাংবাদিকদের কাজ। এই প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষমতাকে কেউ ব্ল্যাকমেইলের ইন্সট্রুমেন্ট হিসাবে কাজে লাগাতে চান, তখন পেশাদার সাংবাদিকরা বিপদের মধ্যে পড়ে যান।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার, ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, স্বৈরাচারী সরকার- স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে চায় এবং গণমাধ্যমে গদি সাংবাদিকতা তৈরি করতে চায়। তারা চায় তারা দেশ শাসন করবে তাদের খুশি মতো, শোষণ করবে তাদের খুশি মতো, লুট করবে তাদের খুশি মতো, খুন করবে, গুম করবে এবং তাদের এই অপকর্মের পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য গণমাধ্যম কাজ করবে । আবার কিছু গণমাধ্যম এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতিত হচ্ছে, নিপীড়িত হচ্ছে, তাদের কণ্ঠস্বরকে রোধ করে দেওয়া হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে,  মামলা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের যে দায়িত্ব এবং ক্ষমতা- তা একদিকে যেমন জনগণের পক্ষে ব্যবহার করা যায়, ঠিক তেমনি এটাকে জনগণের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যায়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পত্রিকার মালিক সমিতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু গণমাধ্যম পরিবেশকে নিশ্চিত করতে চাই এবং সেই কারণেই কোনে পত্রিকার কত ছাপা সংখ্যা এবং কোন টেলিভিশনের প্রচার সংখ্যা কত- এ বিষয়ে আমাদের একটি স্বচ্ছ হিসাব থাকতে হবে। ভুল ছাপার হিসাবের নামে কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা আর পাবে না। আমরা একটি সঠিক নীতিমালার ভিত্তিতে কোন সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের গ্রহণযোগ্যতা যতটুকু আছে তার একটি ডিজিটাল ম্যানেজমেন্টের দিকে যেতে শুরু করব। আমরা স্বীকার করি এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সংবাদপত্র শিল্পজগৎ অন্য কোনো শিল্পজগতের সাথে তুলনা করা যায় না। গার্মেন্টস শিল্প জগৎ কিংবা অন্য কোনো শিল্প জগতের সাথে সংবাদপত্র শিল্পজগৎকে তুলনা করা হয় না। সে কারণেই আমরা এই শিল্পজগতের উদ্যোক্তাদেরকেও সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চাই। কেননা সংবাদপত্র শুধুমাত্র উদ্যোক্তাদের মুনাফার জন্য নয়, সংবাদপত্র টেলিভিশন কিংবা যে কোনো গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করে তাহলে সমাজ রাজনীতি একটি লাগাতার জবাবদিহিতার মধ্যে চলতে বাধ্য থাকবে। আর যত বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, শাসনব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করা যায়, সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় দেশ এবং জাতি।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার সংজ্ঞা বদল হয়ে গেছে। আগে সাংবাদিকতা বলতে যা বুঝাতো এখন তা বুঝায় না। প্রচলিত গণমাধ্যম বলতে যেমন আমরা বিভিন্ন বড় বড় পত্রপত্রিকাকে বুঝতাম এখন কিন্তু গণমাধ্যম বলতে তা বুঝায় না। এখন একজন মেধাবী ব্যক্তি তার শয়নকক্ষে বসে শুধু ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে তিনি যেমন গ্রাউন্ড তৈরি করতে পারেন, যে পরিমাণ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারেন, আধুনিক অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও তা পারে না। এমনকি একজন সাধারণ বুদ্ধিমান নাগরিক তার সামনে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা মুহূর্তে ক্যামেরা বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন, তখন প্রচলিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তার কাছ থেকেই কিন্তু সংবাদটি সংগ্রহ করে। এমন অনেক কাজ করছেন একজন সৎ এবং বুদ্ধিমান নাগরিক। যাদের কাছে ডিভাইস আছে, ইন্টারনেট ক্ষমতার কারণে সিটিজেন জার্নালিজম এখন অনেক বেশি পাওয়ারফুল। পরিবর্তনের এই গতির সাথে যদি আপনারা তাল মিলাতে না পারেন তাহলে আপনি গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পরবেন।

মন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ে আমি কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি- আমার হাতে একটি বাটন ফোন আর জনগণের চাহিদা ডিজিটাল সার্ভিস। একটি বাটন ফোন দিয়ে যেমন ডিজিটাল সার্ভিস দেওয়া যায় না, সরকারের বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর যে তথ্য ব্যবস্থা যে ধরনের অবকাঠামো বিরাজ করে এ ধরনের অবকাঠামো দিয়ে আধুনিককালের তথ্য সেবা দেওয়ার কোনো উপায় নেই। সঙ্গত কারণেই আমাদেরকে অনেক গভীরভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম ইরাদত মানু, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন এবং সাবেক মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার সঙ্গে সরকার তথা স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমতি ছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা চুক্তি স্বাক্ষর করছে। এ ইস্যুতে উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সকল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সকল পৌরসভার প্রশাসক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের কোনো কোনো সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দাতা সংস্থার সাথে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করছে, যা সরকার তথা স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি ব্যতীত সম্পাদিত হচ্ছে।

এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি নীতিমালা ও বিধিবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দাতা সংস্থার সাথে যেকোনো প্রকার উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগে আবশ্যিকভাবে সরকার তথা স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও এতে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে যেকোনো প্রকার উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে আবশ্যিকভাবে সরকার তথা স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ করার জন্য সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে নির্দেশনা দেওয়া হলো।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা ইতোমধ্যে কোনো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দাতা সংস্থার সাথে উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে থাকলে জরুরিভিত্তিতে তার তথ্য এ বিভাগে পাঠানোর জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্টের মধ্যে স্থান পেয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন।

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি সামনে আসে। প্রতিটি বালিশ কেনায় ৫,৯৫৭ টাকা এবং তা ওপরে তোলার খরচসহ অন্যান্য সামগ্রীতে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন। সেখানে বালিশ কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে।’

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের এরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২০২১-২২ অর্থ বছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম।

‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতির ওই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

অডিট রিপোর্ট পেশকালে মন্ত্রি পরিষদে সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর পাঁচটা দিনের থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সুনসান স্টেডিয়াম যেন হঠাৎই জেগে উঠেছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহারা আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে—নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা। 

আজ বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।

আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।

 

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।

আজ সিলেটে গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।

 

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”

 

প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।

পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

 

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনগুলোতে ভূমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, স্থানীয় সরকার ও ভূমিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে ধারাবাহিক অধিবেশন শেষে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম অধিবেশন: সিভিল-মিলিটারি সমন্বয় ও অবকাঠামো
দিনের প্রথম অধিবেশনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে। বরগুনায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, আমাদের সরকার যে দায়বদ্ধতার অবস্থান থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী বাহিনীতে পরিণত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের যে অবস্থান থাকার কথা, সেই দিকনির্দেশনা আমরা দিয়েছি। সেখানে আমি উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে চাই, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে দর্শন ছিল, সে বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাদের জেলা প্রশাসকদের কী ধরনের ভূমিকা থাকা উচিত সে বিষয়েও আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় অধিবেশন: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত নগরায়ণ
দ্বিতীয় অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা উঠে আসে। তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোকে জাদুঘরে রূপান্তর, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদ এবং সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসন করে মন্ত্রণালয়কে জনবান্ধব করতে চাই। সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা এবং বীরনিবাস প্রকল্প। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ভূমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, খেলার মাঠ, পার্ক ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল রক্ষণাবেক্ষণ করতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

তৃতীয় অধিবেশন: প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও গবেষণা
তৃতীয় অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, ফেলোশিপ বৃদ্ধি, ক্ষতিকর ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ, পার্বত্য অঞ্চলে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জেলা প্রশাসকরা সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। সাইবার সিকিউরিটির কী অবস্থা জানতে চেয়েছেন। ডাক বিভাগের কী অবস্থা, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল তাদের। অনেক ক্ষেত্রে ডাক বিভাগ কিছু করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ডাক বিভাগ এখন অনেক কিছু করছে। নির্বাচনের সময় পোস্টাল ব্যালট পরিবহনের কাজটি ডাক বিভাগই করেছে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান নিয়েও তাদের প্রশ্ন ছিল। এরইমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমরা চালু করেছি। এটির সেফটি ও সিকিউরিটি নিয়ে অনেকেই জানতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ডিসিরা মাঠপর্যায়ে থাকেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমরা যে পলিসিগুলো দেই, সেগুলো তারা বাস্তবায়ন করবে। আমরা তাদের উৎসাহ দিয়েছি।

চতুর্থ অধিবেশন: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে টেকসই উদ্যোগ
চতুর্থ অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সোলার শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিসি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকেরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

পঞ্চম অধিবেশন: অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি
পঞ্চম অধিবেশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে। বৈধ অভিবাসন বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ পাঠাচ্ছে, এতে অনেকেই বিপদে পড়ছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জেলা প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশে গিয়ে নানা বিপদের মুখে পড়ছেন। এটি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।

তিনি আরও বলেন, সরকার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে চায়। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসনও কমবে। এ লক্ষ্যে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি। যেখানে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই, সেখানে নতুন করে স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

ষষ্ঠ অধিবেশন: স্থানীয় সরকার ও তৃণমূল উন্নয়ন
ষষ্ঠ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সমবায় খাতকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জেলা প্রশাসকরা আমাদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা। আমরা পরামর্শগুলো গ্রহণ করেছি। কেননা স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান। আর এ প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের কাজ করতে হবে। অর্থাৎ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ডিসিদের কাজ করতে হবে। কারণ জনগণই হচ্ছে এই দেশের মালিক।

সপ্তম অধিবেশন: জলমহাল পুনঃখনন ও শূন্য পদে জনবল নিয়োগ
তৃতীয় দিনের শেষ (সপ্তম) অধিবেশনে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে জটিলতা নিরসনে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭’-এর অধীন বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া জলমহাল পুনঃখনন, জলমহাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন ও অবহিত করার লক্ষ্যে ভূমি মেলা আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে গতি আনার ওপর অধিবেশনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হেরে গেছেন। তিনি ভবানিপুর আসনে নির্বাচন করেছিলেন। সেখানে বিজেপি ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুভেন্দুর থেকে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।

এরআগে ২০২১ সালে নন্দিগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। এরপর ভবানিপুরে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বিধানসভার সদস্য ও পরবর্তীতে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন।

তবে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় হওয়ায় এবার তার শাসনামলের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে। একটি আসনে ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে সেখানে ২০৪টি আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি। অপরদিকে মাত্র ৮৪টি আসনে এগিয়ে তৃণমূল।

ভবানিপুরের ২০ রাউন্ড ভোগ গণনার মধ্যে ১৯ রাউন্ডের গণনা শেষে শুভেন্দুর চেয়ে ৩ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন মমতা। তখনই তার পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। জিততে হলে ২০তম ও শেষ রাউন্ডে তাকে বড় চমক দেখাতে হতো। কিন্তু সর্বশেষ রাউন্ডে ব্যবধান আরও অনেক বাড়ে।

বিজেপির বিরুদ্ধে একশরও বেশি আসন লুটের অভিযোগ মমতার

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একশরও বেশি আসন লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া তিনি ধাক্কা দেওয়া  মারারও অভিযোগ করেছেন।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় সেখানে নির্বাচন হয়। আর আজ হয় ভোট গণনা। আজকের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৫টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। অপরদিকে তৃণমূল মাত্র ৮৪টি আসন পাচ্ছে।

এরমধ্যেই ফলাফল কারচুপির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, মমতা কালিঘাটে তার বাড়িতে চলে গেছেন। এরআগে সাখাওয়াত নামে একটি গণনা কেন্দ্রে আসেন তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। সবশেষ পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ‘দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাগাম’ (ডিএমকে) জোটকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয় ও তার দল এখন পর্যন্ত ৮৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট ৭৫টি আসনে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ডিএমকে। গত নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে জিতলেও এবার এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ৫৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য আইডিয়াল ফিগার হলো ১১৮টি আসন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে বিজয় জানিয়েছিলেন, এটি তার কাছে কোনো শখের কাজ নয় বরং জনগণের সেবা করার একটি ‘মিশন’। অভিনয়ের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই তিনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।

বিজয়ের এই আকস্মিক উত্থানকে বিশ্লেষকরা তামিল রাজনীতির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। ইশতেহারে তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি বিজয়ের এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের ‘হুইসেল’ বিপ্লব তামিলনাড়ুর মসনদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন পুরো ভারতে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা।

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। কাজের ফাঁকে সবটুকু সময় সন্তানদের নিয়ে কাটান তিনি। ছেলে পূণ্য ও দত্তক নেওয়া কন্যা প্রিয়মকে নিয়ে এখন তার সংসার। অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে একা হাতেই সব দায়িত্ব পালন করছেন এই নায়িকা।

অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় পরীমণি। মাঝে মাঝেই সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন তিনি। এবার মেয়ে প্রিয়মের জন্মদিনে একগুচ্ছ ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন পরী।

মেয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে পরীমণি আবেগঘন ক্যাপশন লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার মা। আমার ছোট্ট রঙিন প্রজাপতি। আমার বাচ্চা, আম্মু তোমাকে অনেক ভালোবাসি। হ্যাপি বার্থডে আমার পুতুল।’

শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, নীল ও সাদা বেলুনে সাজানো একটি মনোমুগ্ধকর ব্যাকড্রপের সামনে মেয়েকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পরীমণি। সামনে সাজানো টেবিলে রয়েছে সুন্দরভাবে তৈরি একটি থিম কেক, যা পুরো আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে পরীমণির এই ভালোবাসা নতুন নয়। ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার পরপরই তা ভক্তদের ভালোবাসায় ভেসেছে। অনেকেই প্রিয়মকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরীর মাতৃত্বকে প্রশংসা করেছেন।

মৌলভীবাজারে পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে জেলার হাওরাঞ্চল। সোমবার (৪ মে) পানি কিছুটা কমায় ও দিনভর হালকা রোদ থাকায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। যেসব ধান কাটার পর রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছিল এসব ধান কিছুটা হলেও শোকাতে পাড়ছেন কৃষকরা। হাওরে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাসতে শুরু করছে পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান।

কৃষকরা জানান, এক সপ্তাহ পর আজ কিছুটা রোদে ধান শোকানো গেছে। যেসব কৃষক কষ্ট করে বুকসমান পানি থেকে ধান কেটে এনেছিলেন তাদের ধান রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছিল। অনেক ধান থেকে চারা গজিয়েছে। এক সপ্তাহ পর রোদে ধান শোকাতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছেন তারা। তবে বেশিরভাগ ধান হাওরের পানির নিচে তলিয়ে আছে। জেলায় অন্তত ২০ হাজার কৃষক একেবারে ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২৫৯৭ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫০০টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘী, হাইল হাওর, কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কিছুটা নামতে শুরু করায় কিছু কিছু এলকায় ধান ভাসতে শুরু করেছে। তবে বেশিরভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা পাওয়ায় ধানের ঢিবি থেকে রোদে শোকাতে দিয়েছেন।

কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না। তারা সবসময় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এড়িয়ে যায়। হাওরের ৫০ শতাংশ কৃষক ধান কাটতে পারেননি। অথচ কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে ৮৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে হাওরে। অনেক মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ কেউ এনজিওর ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এখন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এসব কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কৃষক কামাল আহমেদ বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় একসপ্তাহ ধরে হাওর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ বোরো ফসল পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা ধান কেটেছিলেন তরা শোকাতে পারেননি। আজ সকালে বৃষ্টির পর কিছুটা রোদ উঠেছে। হাওরের পানিও কমতে শুরু করেছে তবে ধান নষ্ট হয়ে গেছে একেবারে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় ২ হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর হাওরে ধান অনেক ভালো হয়েছিল। তবে প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভালোভাবে ধান ঘরে তোলা যায়নি।

চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)। ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বীকৃতি আসে গত ২৮ এপ্রিল।

এ বিষয়ে সিফাত আকন বলেন, বছর চারেক আগে পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমার চোখে পড়ে। সেখান থেকে পরিকল্পনা শুরু করি। তখন ছিল করোনা কাল, তাই মাস্ক-সংক্রান্ত কিছু করার কথাই সবার আগে মাথায় এসেছিল। ঠিক করি, মাস্ক পরে রেকর্ড গড়বো।

তিনি বলেন, এই রেকর্ডটা প্রথম করেছিল একজন ভারতীয়। তিনি সম্ভবত ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে করেছিলেন। তখনই আমি রেকর্ড ভাঙার কথা চিন্তা করি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কোথাও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাই নাই। তখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেসবুক, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। সেখানেও কোনো পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন মেলেনি।

সিফাত আরও বলেন, হাল না ছেড়ে পুরো প্রচেষ্টায় শুরু করি, শুরুর দিকে ২৫-২৬ সেকেন্ড লেগে যেত। কারণ চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। প্রথমত চোখ বাঁধা থাকার কারণে মাস্ক হাতে তুলে নিতে সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ত, মাস্কটি ঠিকভাবে পরাও কঠিন। অনুশীলনের সময় মা, ছোট ভাই আর বন্ধু ইমনের উৎসাহ পাই। ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিসহ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করি। তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলে আমার রেকর্ডকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস। খবর শুনে আমার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলেন আমার মা।

সিফাত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়তে চান। সিফাতের বাবা আবদুল জলিল একজন বনরক্ষী। আর মা গৃহিণী।

সিফাতের মা বেগম সুরমা বলেন, সামনে সিফাতের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা। এক মিনিটে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরার রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন সে। করতে চান এক মিনিটে সর্বোচ্চ ‘হ্যান্ডশেক’ এর রেকর্ডও।

সিফাতের বাবা জলিল আকন জানান, তার ছেলের সাফল্যে খুশি। গর্বের বিষয় সে ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে রেকর্ড গড়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে এই প্রত্যাশা করেন।

ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, সিফাত আমাদের এলাকারই সন্তান। অনেক অধ্যবসায় করার ফলে তিনি ১০ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে, এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আমি ওর রেকর্ডটি নিজ চোখে দেখেছি। ভবিষ্যতে যেন ভালো কিছু করতে পারে, এটাই প্রত্যাশা করি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এই রেকর্ডের জন্য সিফাত আকনকে কার্যালয়ে ডেকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। তাকে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে তার পাশে থাকার কথা বলেন ইউএনও।