কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের রাস্তাগুলোর অসংখ্য খানাখঁন্দক ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার করে নাগরিকদের প্রশংসায় ভাসছেন হাজী আবুল হাসনাত রিমন সিকদার। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরেও শহরের এসব সড়ক সংস্কারে পৌরসভার কোন উদ্যোগ না থাকায় নাগরিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক সংস্কারের এমন উদ্যোগ নেন তিনি। এতে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ, রিকশা, অটো, ভ্যান, পিকআপ, ট্রলি, পন্যবাহী ট্রাক চালকদের মুখে মুখে রিমন সিকদারের নাম।
১৯৯৭ সালের ১ মার্চ প্রতিষ্ঠিত কলাপাড়া পৌরসভা। বর্তমানে এটি ‘এ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। তবে এ পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি এখনও। শতভাগ নাগরিক সেবা প্রদানে এটি এখনও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। কেননা বর্ষা এলেই শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সৃষ্ট খানাখঁন্দকে পানি জমে থাকে। সে সব খানাখঁন্দকে যানবাহনের চাকা পড়ে যানবাহন নষ্ট হওয়া সহ পথচারীদের কষ্ট, দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। এমনকি যানবাহনের চাকায় কাঁদা পানি ছিটকে পথচারীদের জামা কাপড় নষ্ট করে বিরক্তির কারণ হচ্ছে প্রায়শ:ই। এতে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে মুখরোচক আলোচনা শোনা যায় নাগরিকদের কাছে।
পৌর শহরের রহমতপুর ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিকশাচালক মানিক বলেন, ‘ পৌরসভার যিনি মেয়র হন, দেখা গেছে তিনি তার আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে উন্নয়নের কাজ করান। এতে সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় ক’দিন যেতেই সড়কে অসংখ্য খানাখঁন্দক সৃষ্টি হয়। আর তাতে রিক্সার চাকা পড়ে যাত্রীসহ আমাদের কষ্টের শেষ থাকে না। তখন যাত্রীরা পৌরসভার জনপ্রতিনিধি সহ মেয়র কাউন্সিলরদের নিয়ে গালাগাল করেন। বর্ষা এলেও পৌরসভা সড়কের সংস্কার কাজ না করায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিএনপি নেতা রিমন সিকদার সংস্কার কাজ করায় আমরা তার জন্য দোয়া করি।’
নতুন বাজার ২ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী আরিফ সিকদার বলেন, ‘ আমরা যারা ব্যবসা করি তাদের পণ্যবাহী যানবাহন এখন থেকে স্বাচ্ছন্দে শহরের সড়কে চলাচল করতে পারবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাকে সাধুবাদ জানাই।’
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নাগরিক রুস্তম আলী বলেন, ‘রিমন সিকদার একজন নাগরিক বান্ধব মানুষ। তিনি মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে খেলাধুলায় আকৃষ্ট করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, হাডুড’র মতো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ইতিমধ্যে মানুষের প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। আগামী দিনে পৌরসভার নেতৃত্বে নাগরিকরা এরকম তরুণ নেতৃত্বই আশা করছে।’
কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘পৌরসভার কাউন্সিলরদের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে মিটিংয়ে বিষয়টি জানতে পেরে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে জানলাম, হাজী সাহেবের ছেলে রিমন সিকদার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। নিজ শহরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কেউ যদি এমন উদ্যোগ নেয় আমরা তাকে থামাতে পারি না। তার মতো আরও এরকম মানুষ এগিয়ে এলে নাগরিক বান্ধব হয়ে উঠবে এ পৌর শহর।’
উপজেলা বিএনপি’র যুব বিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়া সংগঠক আলহাজ্ব আবুল হাসনাত রিমন সিকদার বলেন, ‘ বেশ কিছুদিন ধরে যানবাহন চালক ও নাগরিকদের কাছ থেকে শহরের সড়কগুলোতে খানা খঁন্দকে সৃষ্ট দুর্ভোগের কথা শুনছিলাম। পরে নাগরিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে আমার নিজের ইটভাটা থেকে কয়েক ট্রাক ইট এনে এসব খানাখঁন্দকে দিয়ে সংস্কার কাজ করি । নাগরিকদের সেবায় আমি নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখতে সকলের সহযোগিতা চাই।’

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মরত রয়েছেন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে নামকরা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ক্লাশ না করে প্রাইভেট, কোচিং এ ব্যাস্ত থাকের। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে পরিদর্শন করতে গিয়ে বিদ্যালয় কর্তপক্ষের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার আরও একটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয় মূল ভবনের পিছনে ১০ থেকে ১২টি পূর্ণ বয়ষ্ক রেইনট্রি গাছ কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। যা বিদ্যালয়ের পিছনে বসবাসকৃত অধিবাসীরা এবং অনেক সময় ভাসমান লোকজন ভেঙ্গে কিংবা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গাছগুলো সংরক্ষন বা অপসারনপূর্বক নুতন করে বৃক্ষ রোপনের কোন ‍উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়নি। এ যেন সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল। বিদ্যালয়ের পাড় ভেঙ্গে বিশাল আকৃতির খেজুর গাছ পুকুরে পড়ে আছে দেখার কেউ নেই। বিদ্যালয় পুকুর পাড়ে এখনো পড়ে আছে বড় সাইজের দুটি মেহগণি গাছের গোড়া যা কাটা হয়েছে একবারেই স্পষ্ট। গাছদুটি মরা গাছ ছিলা না পর্যবেক্ষন করলে সহজেই বোঝা সম্ভব।
প্রধান শিক্ষক খেজুর গাছের কথা বললেও মেহগনি গাছ কাটার ব্যপারে কোন সদোত্তর দিতে পরেননি। এবং গাছ কাটার কোন কমিটি কিংবা কোন অনুমোদনও দেখাতে পারেন নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় বিদ্যালয় কোয়ার্টারে বসবাসকৃত জনৈক শিক্ষক উক্ত গাছ কেটে ফার্নিচার বানিয়েছেন যা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
জানা গেছে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক বিগত সরকারের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গরু পালন করতেন। এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে নিয়মিত গরু চরাতেন। বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন কোচিং বাণিজ্য। যেখানে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হওয়ায় এ সকল অন্যায় অপরাধ গুলো মেনে নিচ্ছেন অবলীলায়।
এই জীবিত গাছ কাটা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মাহামুদুল হাসান বলেন, দুইটি রেইন্ট্রি গাছ ছিলো, দুটিই পড়ে আছে। কোন গাছ বিক্রি হয়নি।
বিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক সুজিত শিকদার বলেন ঝড়ে স্কুলের কিছু মেহগনি গাছ পড়ে গেছে। সেগুলো সেখানেই আছে। কোন গাছ কাটা হয়নি। সুতরাং গাছ কাটার সাথে আমার সম্পৃক্ততা কিভাবে থাকবে? এছাড়াও তিনি আরও বলেন, আমি, সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস এবং আরও শিক্ষক এখানে বাস করি। আমরা এগুলো দেখে রাখি। আমি ক্লাশে পরে ফোন দিব।
বিদ্যালয়ের অপর আবাসিক শিক্ষক সুবাস চন্দ্র বিশ্বাসের মুঠোফোন ০১৭১৯৭৩৩৮৮২ নম্বরে বিভিন্ন সময় ১৫ বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম বলেন, কোন গাছ বিক্রি হয়নি। একটি খেজুর গাছ ঝড়ে পুকুরে পড়ে গেছে। কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ভাবে গাছ কাটা সম্ভব না। তাই সেটাও কাটা হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) আকরাম হোসেন বলেন, তিনি কয়েকটি উপজেলার দ্বায়িত্বে আছেন। তাই তিনি এব্যাপারে কোন তথ্য জানেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার হামিদ এর মুঠোফোনে ০১৭৩৩৩৩৪১৫৫ একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

বরিশাল: “এবার এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, ভবিষ্যতে যা দেশে উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে জা‌নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এসময়‌ তি‌নি আরও জানান, এবার একই প্রশ্নে দেশের নয়টি বোর্ডে পরীক্ষা হবে।

বরিশালে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন।

তিনি আরো বলেন, “নতুন প্রজন্মকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা হবে। সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষনের আওতায় আনা হবে। প্রজুক্তি নির্ভর ক্লাস রুমে ক্লাস সম্পন্ন করবে শিক্ষকরা। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুন্দর করার লক্ষে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে পাবলিক পরীক্ষা এক্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। বাহির থেকে যদি কেউ সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের সবার জন্য শাস্থির ব্যবস্থা থাকবে।

পুলিশের বডি অন ক্যামেরা রাখা হবে। কেউ জোরদারী করতে পারবে না। এছাড়া খাতা পরিবর্তন, নম্বর বন্টনে অনিয়ম হলে সে ব্যাপারেও আইন প্রনয়ন করা হবে।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সাথে মত বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, “যে কোন পরীক্ষা সম্পন্ন হবার ২ মাসের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ২ বছরের কোরস ২ বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন সেশন জট থাকতে পারবে না।”

নগরীর শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে সকাল দশটা থেকে শুরু হয়ে টানা দুই ঘন্টা ধরে চলা এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কাজ করে যাবেন, যা দাবি দাওয়া তিনি উপস্থাপন করবেন। যেহেতু বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ জুন শনিবার বিকেল তিনটায় নগরীর সদররোডস্থ হোটেল কিং ফিশার হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা শাখার শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সদস্যদের সমর্থন ও ভোটাভুটির মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়।
বরিশাল জেলার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক বর্তমান’র ব্যুরো চিফ ও বরিশাল বাণী’র সম্পাদক মোঃ মামুন-অর-রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিনের ব্যুরো চীফ মোঃ আরিফুর রহমান খান। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি এম.আর প্রিন্স নির্বাচন পরিচালনা করেন।
এতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সালাম (স্বাধীনপত্র), মুজিব ফয়সাল (এসএ টিভি), জিহাদ রানা (বাংলাদেশ টুডে), মফিজুর রহমান মিলন (দৈনিক ডেসটিনি), মাসউদ সিকদার (দৈনিক মুক্তখবর) ও হাবিবুর রহমান (সংবাদ সংস্থা এফটিএন), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.কে রানা (ভোরের কাগজ), এস এন পলাশ (যুগান্তর) ও আতিকুর রহমান চৌধুরী (দৈনিক ডেসটিনি), সহঃ সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন (বিজয় টিভি), সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল শাহীন (দৈনিক আজকের বরিশাল), সহঃ সাংগঠনিক পারভেজ সরদার (দৈনিক বর্তমান), দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ (বরিশাল মুখপত্র), সহঃ দপ্তর সম্পাদক ইমরান হোসেন (কলমের কন্ঠ), অর্থ সম্পাদক এইচ এম আসলাম (আজকাল বিডি), সহঃ অর্থ সম্পাদক শামীম মীর (আপডেট নিউজ), প্রচার সম্পাদক এম সাইফুল ইসলাম (দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল), সহঃ প্রচার সম্পাদক নাজমুল হক মুন্না (বর্তমান), সাহিত্য সম্পাদক শাওন খান (জাগো নিউজ), অাইন বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজ ইসলাম সবুজ ( ঢাকা প্রতি‌দিন ), সহঃ আইন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (আজকের বরিশাল), জনকল্যাণ সম্পাদক আল আমিন (বরিশালের কথা), সমাজসেবা সম্পাদক মহিউদ্দিন মিলন (বরিশাল বাণী), ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল আলম মামুন (দৈনিক ঘোষণা), সহঃ ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি (বর্তমান), শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জাকির জমাদ্দার (আজকের বার্তা), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস (দৈনিক সত্য সংবাদ), সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ (আজকের পরিবর্তন), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মালা রাখাইন (দৈনিক নবচেতনা), ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ জাকারিয়া (দৈনিক ঐশিবাণী)।
এছাড়া নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ রাসেল (মাই টিভি), মুশফিক সৌরভ (বাংলানিউজ), ফাহিম ফিরোজ (মানবকন্ঠ), এইচ এম হেলাল (বরিশাল সময়), মশিউর রহমান মন্টু (ভোরের অঙ্গীকার), এম জাহিদ (ফর্মাল নিউজ), শাহজাদা হীরা (শাহনামা), মিজানুর রহমান মৃধা (আজকের বরিশাল), অপূর্ব সাইফুল (মুখপত্র), আম্মার হোসেন (আজকের ক্রাইম টাইমস), এস.এম সেলিম (আজকের বরিশাল), আরিফুর রহমান তালুকদার (বরিশাল বার্তা), রাজিব খান (কলমের কন্ঠ), শহীদুল্লাহ সুমন (ক্রাইম নিউজ), সিহাব তোহা (সকাল সংবাদ), মাসুদুর রহমান আসলাম (তালাশ বিডি), এস.এম আল আমিন (আগামীর বাংলাদেশ), লিটন বাইজিদ (বরিশাল জনপদ), লুৎফুর ক‌বির জু‌য়েল ( অাজ‌কের সুন্দরবন ), মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ (বাংলাদেশ বাণী), মাসুদ রানা (ভোরের আকাশ), খলিফা মাইনুল (দখিনের মুখ), সাইফুল ইসলাম (কান্ট্রি টুডে), ছাব্বির আহমেদ অন্তর (বরিশাল বাণী), মাহফুজ ইসলাম সবুজ (ঢাকা প্রতিদিন), আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম নিউজ) ইঞ্জিঃ এনামুল রানা (দৈনিক সুলতান) ও আরেফিন পারভেজ (জনবাণী)।
এর আগে বিগত দিনের আয় ব্যায়ের হিসাবে পেশ ও সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্থার বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি এম আর প্রিন্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ মামুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার পুণঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান খান।

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে বিশালাকৃতির ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বেলিন প্রজাতির মৃত তিমি। বুধবার (৩ জুন) দুপুর দুইটায় সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন সৈকতের পূর্বপাশে তিমিটি ভেসে আসে। দীর্ঘ দুই যুগে সৈকতে ভেসে আসা তিমির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এর আগে সকালে কুয়াকাটা থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে তিমিটি ভাসতে দেখে জেলেরা। খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে তিমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে তিমিটি অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার সম্ভব না হলে স্রোতের টানে সেটি ঝাউ বাগান এলাকায় ভেসে আসে।
উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ধারনা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারনে মারা গেছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি জীব বৈচিত্র্যের জন্য একটি অসনী সংকেত। তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য তাইফুর রহমান তুহিন ও তার টিমের সদস্য এবং এস এ টিভির সাংবাদিক সাদ্দমের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবীতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(২৫ মে) বেলা ১১ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোটার্স ইউনিটি এবং টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের আয়োজনে প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের উপর হামলা শুধু ব্যক্তি তুহিনের উপর নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের উপর আঘাত। তাই অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে মুলহোতা মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একই সাথে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

 

অনলাইন ডেস্ক :  বরিশালে মোঃ কিবরিয়া খান (কেবু) নামে মহানগর যুবদলের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের জানুকি সিংহ রোড এলাকার বাসু মিয়ার গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলা চলমান একটি জমিতে বালি ভরাটকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা কিবরিয়া খানের ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে দ্রুত উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত কিবরিয়া খান অভিযোগ করে বলেন, জানুকি সিংহ রোডের বাসু মিয়ার গলিতে মামলা চলমান জমিতে বালি ভরাটের খবর পেয়ে তিনি সেখানে বাধা দিতে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইমন, ইশান, শান্ত, সিমান্ত, তপু ও শাকিলসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২০ থেকে ২৫ জন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, বালি ভরাটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বরিশাল ডেক্স : বরিশাল বিভাগে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্ষুদ্রঋণ, দারিদ্র্য বিমোচন থেকে শুরু করে জলবায়ু সহনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন—বিভিন্ন খাতে ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে সেবা দিয়েছে ব্র্যাক। সংস্থাটির দাবি, বিভাগের প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে তাদের সেবার আওতায় এসেছেন।
বুধবার (২০ মে) নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ৮৯ লাখ। এর মধ্যে গত বছর ২৪ লাখ মানুষ ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রমের সুবিধা পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের মিল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, সেফগার্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিভাগের পরিচালক আফম শহিদুর রহমান বলেন, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সম্ভাবনা তৈরিতে কাজ করছে ব্র্যাক। আগামী পাঁচ বছরে নারী ও তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল বিভাগে ব্র্যাকের ৪ হাজার ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী। ২৫৩টি সামাজিক উন্নয়ন কার্যালয় ও ১৩টি সামাজিক ব্যবসা কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিভাগে ১৯ হাজার ৮০৮টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৯৪টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। পাশাপাশি আর্থিক সেবার আওতায় এসেছে ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীর প্রায় ৯১ শতাংশ নারী।
স্বাস্থ্য খাতে ব্র্যাকের কার্যক্রমের আওতায় এসেছে ৪ লাখ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি নারী এবং ৫১ হাজার ৯৮৩টি নিরাপদ প্রসবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় প্রশাসন ব্র্যাকের কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: “তমাল ছায়ে এসো প্রাণের উৎসবে ” এ স্লোগানে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের(বিএম স্কুল) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১১ যুগপূর্তি উৎসব ২০২৬ আগামী বছরে ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এ উপলক্ষে অনলাইন ও সশরীরে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ১২ মে বিকেল ৫ টায় বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অনলাইনে নিবন্ধন করে কার্যক্্রম শুরু করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিজয় কৃষ্ণ দে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মোঃ মোমিন হাওলাদার , উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি পঙ্কজ রায় চৌধুরী,গোলাম মাসরেক বাবলু,ভানু লাল দে,ননী গোপাল শীল,শুভংকর চক্রবর্তী, আজমল হোসেন লাবু,কমল সেনগুপ্ত,শ্যামল সেনগুপ্ত, রাহুল দে কাজল দাস,তন্ময় নাথ,নিখিল চন্দ্র মাঝি,নূর মোঃ রিয়াজ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে অনলাইনে নিবন্ধন করে এ কার্যক্রম তরান্বিত করেন। ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

আগ্রহীদের রেজিস্ট্রেশন ফর্ম: https://forms.gle/BgvzDGN2GoUg2m8V7 ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে এবং সশরীরে রেজিস্ট্রেশন করতে আহবান জানিয়েছেন পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহবায়ক পঙ্কজ রায় চৌধুরী ।

তিনি জানান, অনলাইনে প্রবেশ করলে যে তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে তা পূরণ করতে হবে। যে ই-মেইল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হবে সেই ই-মেইলেই এন্ট্রি টিকেটের পিডিএফ ফাইল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ফরম নম্বরের অনুকূলে মোবাইল ব্যাকিংয়ের জন্য দেওয়া নম্বর খরচসহ টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানো হলে ট্রানজেকশন কপি অনলাইনের ফর্মে ইনপুট করে সাবমিট করতে হবে।

যারা সরাসরি নিবন্ধন করতে চান,ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে সাথে ২ কপি পাসপোর্ট নিয়ে আসতে হবে। নিবন্ধন ফি ১০০০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এ উৎসব প্রানবন্ত করতে সকল প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করে এবং উৎসবের ফেসবুক পেজ ও সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহবান করেছেন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তথ্যভিত্তিক, নিরাপদ ও সমঅধিকারভিত্তিক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপসা।

আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ সেইন্ট বাংলাদেশ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে রূপসার কমিউনিকেশন অফিসার রবিউল শিকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট ও গণভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সক্ষম হলেও তথ্যপ্রাপ্তি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

রবিউল শিকদার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইউরোপীয়ান পাটনারশীপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “সিভিক রাইটস অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অবজারভেশন” উদ্যোগের আওতায় দেশের ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে প্রাক-নির্বাচন, নির্বাচন দিবস ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।

রূপসার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সময়মতো খোলা হয়েছে এবং ভোটাররা বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে নির্বাচন সুশৃঙ্খল হলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর গণভোট সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এটি ভোটার শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতার ঘাটতির প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন মাত্র ৪ জন। নির্বাচিত চারজনই একই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন নারী ছিলেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু নারীদের সীমিত অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে।

রূপসা দাবি করে, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনগত ও নীতিগত কাঠামোর অভাব সমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে হয়রানি, চাপ প্রয়োগ কিংবা ভোটার চলাচলে বাধার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী প্রতিশোধের আশঙ্কায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রকাশ্যে অংশ নিতে অনীহা দেখা গেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতি সংখ্যালঘুদের তথ্যভিত্তিক, নিরাপদ ও সমঅধিকারভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় রূপসা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে বহু-ভাষাভিত্তিক নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু, সংখ্যালঘু ভাষায় নির্বাচনী উপকরণ সরবরাহ, মোবাইল ভোটার নিবন্ধন সেবা সম্প্রসারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চা বাগান এলাকায় ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি, ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং সংখ্যালঘু নারী ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বেচ্ছা অঙ্গীকার নিশ্চিত করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সমান নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানান।